‘পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এমন সাফল্য কঠিন নয়’

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২২
গলফার সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র, ফেডারেশন আর সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে উপযুক্ত সহযোগিতা পেলে গলফের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইউরোশিয়া কাপের মতো সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করা সম্ভব। ইউরোশিয়া কাপের উদ্বোধনী আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স শেষে দেশে ফিরে এলে গতকাল শুক্রবার কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব ও বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন। গেল মাসে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মহাদেশীয় টুর্নামেন্টটির প্রথম দুই ধাপ শেষে পিছিয়ে থাকা টিম এশিয়া সিদ্দিকুরের দুরন্ত নৈপূণ্যে শেষ দিনে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। এই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে সামনের টুর্নামেন্টগুলোতে আরো ভালো করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশসেরা এই গলফার। গত বছরের শেষ দিকে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হিরো ইন্ডিয়ান গলফে শিরোপা জেতার পর গত কিছুদিন ধরে খুব একটা আলোচনায় ছিলেন না সিদ্দিকুর। বাংলাদেশের প্রথম গলফার হিসাবে অস্ট্রেলিয়ায় গলফ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও সেখানে মনে রাখার মতো কিছু করে দেখাতে পারেননি। তাই ইউরোশিয়া কাপটা সিদ্দিকুরের জন্য ছিল ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জও। সিদ্দিকুর সেই চ্যালেঞ্জে সাফল্যের সাথে উের যাওয়ার পর গতকালকের এ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমাদের পাইপলাইনে এখন অনেক খেলোয়াড়। অনেকেই আছেন দারুণ সম্ভাবনাময়। তারা ভালো করছেন। ভালো খেলার তাড়নাও আছে তাদের মধ্যে। কিন্তু দেশে হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র খেলার প্রতি সবার আগ্রহ। অথচ, প্রতিভার দিক থেকে গলফাররা মোটেই পিছিয়ে নেই। গলফ যেহেতু অনেক ব্যয়বহুল একটি খেলা তাই এখানে সবার সাহায্য প্রয়োজন। ফেডারেশনের পাশাপাশি দেশের শিল্পপতি বা ধনাঢ্য ব্যক্তিরা যদি তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসেন তাহলে এধরনের সাফল্য আবারো অর্জন করা মোটেই কঠিন নয়।’ তরুণ খেলোয়াড়দের সঠিক পথ নির্দেশ করতে সিদ্দিকুর জানালেন নিজের ইচ্ছার কথাও, ‘ফেডারেশনের বাইরে এই মুহূর্তে আমার করণীয় হয়তো সামান্যই। তবে তরুণ গলফারদের পরামর্শ দিয়ে হোক, কিংবা তাদের সুইং, শট প্রভৃতি বিষয়ে যে কোন সাহায্য করতে আমি আগ্রহী।’ পেশাদার গলফে শুরুর দিকের অসুবিধাগুলোর কথা স্মরণ করে সিদ্দিকুর আরো বলেন, ‘আমি যখন শুরু করি সেসময় নিজের চেষ্টার পাশাপাশি অনেকের সহযোগিতাও পেয়েছি। ফেডারেশনের কর্তাব্যক্তি থেকে শুরু করে কোচ, পৃষ্ঠপোষক সবার কাছ থেকেই আমি সহযোগিতা পেয়েছি। যেটা না পেলে আজকের অবস্থানে আসাটা হয়তো কঠিন হতো।’ ইউরোশিয়া কাপের প্রথম দিনে ২৭ মার্চ ইউরোপিয়ানদের কাছে পাত্তাই পায়নি এশিয়ানরা। ইউরোপ ও আমেরিকার সেরা গলফারদের নিয়ে আয়োজিত দলগত প্রতিযোগিতা ঐতিহ্যবাহী রাইডার কাপের শিরোপাধারী ইউরোপীয় দলটি জয় পায় ‘ফোরবল’ রাউন্ডের প্রতিটি ম্যাচেই। ৫-০ তে পিছিয়ে থাকা এশীয় দল দ্বিতীয় দিনে ‘ফোরসাম’ রাউন্ডে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তিনটি জয় নিয়ে তারা ব্যবধান কমিয়ে আনে ৭-৩ এ। ভারতের অনির্বান লাহিড়ির সাথে জুটি বেঁধে দলকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট এনে দেন সিদ্দিকুর। তবে নিজের সেরা পারফরম্যান্সটা যেন শেষ দিনের জন্যই জমিয়ে রেখেছিলেন বাংলাদেশের এই কৃতী গলফার। পরাজয়ের শঙ্কা নিয়ে শেষ দিন খেলতে নামা এশিয়ান দল টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় সিদ্দিকুরের অসাধারণ পারফরম্যান্সেই। পেশাদার গলফ অ্যাসোসিয়েশনের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৫১ নম্বরে থাকা এই গলফার ব্যক্তিগত রাউন্ডে তিন হোল বাকি থাকতেই হারিয়ে দেন স্কটল্যান্ডের স্টিফেন গ্যালাচারকে। তিনটি ইউরোপিয়ান ট্যুরের শিরোপাজয়ী ও বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৩৭ নম্বরে থাকা গ্যালাচারের বিরুদ্ধে সিদ্দিকুরের এই জয় অবশ্য শেষ পর্যন্ত দলকে শিরোপা জেতাতে পারেনি। ইউরোপ দলের অধিনায়ক মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল শেষ হোলে এশিয়ার নিকোলাসকে ফাংকে হারালে শেষ পর্যন্ত সমতায় শেষ হয় ৩২ কোটি টাকা মূল্যমানের এই টুর্নামেন্ট।