মাহেলা-সাঙ্গার শেষ সুযোগ!

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৪
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দু’জন মিলে করেছেন ২৬,৮১১ রান। ৩৫টি সেঞ্চুরি আর ১৭২টি হাফ সেঞ্চুরি। এতো কিছুর পর ‘অপ্রাপ্তি’ শব্দটির জায়গা আশা করা যায় না! কিন্তু নাম দুটি যখন মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা, তখন ‘সব পেয়ে গেছি’দের দলে তাদের ভেড়ানো যায় না। এখনও যে পরম আরাধ্য বিশ্বকাপটাই রয়ে গেল ধরা ছোঁয়ার বাইরে! সামান্য এই টুকিটাকি পরিসংখ্যান হয়তো চমকে দেয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু, ক্রিকেটপ্রেমী মাত্রই যেটা শুনলে শ্রীলঙ্কা দলের জন্য শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে সেটা হল — ১১টি আইসিসি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলা। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সংখ্যাটি তিন। অবশ্যই সেটা এবারের বিশ্বকাপকে অন্তর্ভুক্ত করে। ভাগ্য একটু সহায় হলে হয়তো ট্রফি কেবিনেটটা এতো দিনে ভরপুর হয়ে যেত। কিন্তু সেখানে কেবল একটাই আইসিসি টুর্নামেন্টের ট্রফি। ১৯৯৬ সালে অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অরবিন্দ ডি সিলভা, সনাথ জয়সুরিয়াদের পর কেউই আর সেই ট্রফিতে হাত রাখতে পারেননি। এর বাদে ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা অল্পের জন্য হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে, সেবারও ট্রফির উপর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়নি। প্রকৃতির সাথে দু’দিন লড়াই করার পর শিরোপার ভাগ-বাটোয়ারা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিরোপার ভাগ বাটোয়ারা হলেও, ট্রফিটা কেউই পাইনি! উইসডেন লিখেছিল, ‘এটা চরম হতাশার, একই সাথে ন্যায্য ফলাফল।’ বিশ্বকাপ জয়ের পরের বছরই লঙ্কান জার্সি গায়ে চাপান জয়াবর্ধনে। কুমার সাঙ্গাকারার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ২০০০ সালে। আইসিসি আয়োজিত কোন টুর্নামেন্টে প্রথম খেলেন ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সেই টুর্নামেন্টের ফলাফলটা তো আগেই জানানো হল! হতাশার ‘অনেকগুলো’ ফাইনালের এই হল শুরু! ২০০৭ সালে আবারও সেই প্রকৃতির কাছে হার মানা। ব্রিজ টাউনের সেই ম্যাচে অন্ধকারে হাতরাতে হাতরাতে লড়াই করেছিল শ্রীলঙ্কা। ডাক ওয়ার্থ লুইস মেথডে হেরেছিল ৫৩ রানে। আর কোনবারই ছিল না বৃষ্টির বাধা। কিন্তু তাতে ভাগ্য হাসেনি লঙ্কানদের হয়ে! মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গত বৃহস্পতিবার আবারও সেই বৃষ্টির বাধা। এবার সেই হিসাব- নিকাশে জয়ী শ্রীলঙ্কা। আরেকবার বড় কোন আসরের ফাইনালে রাবনের দল। এই টুর্নামেন্ট দিয়েই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলতে যাচ্ছেন দুই মহারথী। সামনের বছরই ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ। কিন্তু ঘড়ির কাটায় সময় গড়িয়ে এখন দু’জনই যে ৩৬ পার করে ফেলেছেন। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের সেই বিশ্বকাপে এই দু’জন খেলুন আর নাই খেলুন; অধরা আইসিসির ট্রফি ছোঁয়ার একটা সুযোগ অন্তত পাচ্ছেন এই দু’জন। তাই কি প্রকৃতি হঠাত্ শ্রীলঙ্কার পক্ষ নিল? বিদায়বেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি যে সেটাই বলে গেলেন, ‘আজ আমাদের মধ্যে এমন দু’জন আছেন, যারা শুধু শ্রীলঙ্কাকেই নয়, বিশ্ব ক্রিকেটকেও অনেক কিছু দিয়েছেন। হয়তো সৃষ্টিকর্তাও তাদের বিশ্বকাপ জয় করে মাথা উঁচু করে বিদায় চাইছেন।’ সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে—কোন কালেই বিশ্বকাপ জয়ী নায়ক হয়ে ওঠা হয়নি তাদের। ক্রিকেট-সিংহাসনের সবচেয়ে উজ্জ্বল নকশার একটি হয়েও সেই সিংহাসনে বসার সুযোগ হয়নি তাদের। আবারও প্রস্তুত সেই সিংহাসন। এবার কি হবে রাজ্যাভিষেক?