সীতাকুণ্ড শিপব্রেকিং ইয়ার্ড

দুই বছরে ৪৪ মৃত্যু আদালতের নির্দেশ মানছে না কেউ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩৮
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে পরিবেশ রক্ষা ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। অধিকাংশ ইয়ার্ড মালিকই আদালতের নির্দেশনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদেশ থেকে দূষিত রাসায়নিক পরিপূর্ণ জাহাজ আমদানি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমদানি করা এসব জাহাজ কাটা হয় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে জাহাজ কাটার ফলে গত ২ বছরে এসব ইয়ার্ডে কমপক্ষে ৪০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪৪ শ্রমিকের মৃত্যু ছাড়াও অসংখ্য শ্রমিক আহত অথবা চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকায় আরেফিন এন্টারপ্রাইজ নামের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে চার শ্রমিক নিহত হয়। জানা গেছে, আইন অমান্যকারী শিপব্রেকিং ইয়ার্ড বন্ধের ব্যাপারে চার বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা থাকলেও এ পর্যন্ত এমন অভিযোগে বন্ধ হওয়া ইয়ার্ডের সংখ্যা মাত্র দুটি। প্রায় ১৫ একর উপকূলীয় বনাঞ্চল এলাকা নিধনের অভিযোগে গত মাসে সীতাকুণ্ডের এ দুটি ইয়ার্ড বন্ধ করে দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এদিকে গত বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি করেছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন। এ ব্যাপারে অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি গতকাল শুক্রবার ইত্তেফাককে জানান, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট থেকে ছোট কুমিরা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় ছোটবড় ৬৬টি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড রয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি ইয়ার্ড স্বীকৃত মান রক্ষা করে চলেছে। অধিকাংশ ইয়ার্ডই চলছে সরকারি অনুমোদন ছাড়া জোড়াতালি দিয়ে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার প্রধান নির্বাহী রেজওয়ানা হাসান ইত্তেফাককে বলেন, একের পর এক দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে সরকার আদালতের নির্দেশ একবিন্দুও প্রতিপালন করেনি। আদালত ইয়ার্ডগুলোতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, রেজিস্ট্রার পদ্ধতি অনুসরণ করাসহ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছিল। ইয়ার্ড মালিকরা এসব নির্দেশনা আদৌ প্রতিপালন করেন কি না সে বিষয়ে আর তদারকি করা হয়নি। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অমান্যকারী শিপইয়ার্ডগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, শিপব্রেকিং ইয়ার্ড বিষয়ক পরিবেশ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা পরস্পর বিরোধী। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে বিদেশ থেকে আমদানি করা পুরাতন জাহাজ কাটার ব্যবসা শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। বর্তমানে প্রায় ২ লাখ কর্মী এখানে নিয়োজিত। চট্টগ্রামের এই শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন স্টিল রিরোলিং মিলে বছরে দশ লাখ টন স্টিলের জোগান দেয়া হয়। গত ২০ বছরে ১ হাজারের বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছে বলে গত বছর গ্রিনপিস ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুর্ঘটনায় শ্রমিক মৃত্যুর পাশাপাশি এসব শিপইয়ার্ড মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে।