রংপুরের আঞ্জুমান আরা এখন ঢাকায় বুটিকের দোকান চালান

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৬
ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে সীমিত আকারে শুরু। প্রথমে ঘরে, পরে বাইরে। এই স্বাবলম্বী নারীর নাম আঞ্জুমান আরা। রাজধানীর বেইলি রোডে দোলা ফ্যাশন নামে ব্লক আর বুটিকের কাজ করা শাড়ি, থ্রি-পিসের পসরা সাজিয়েছেন। রংপুরের আঞ্জুমান আরা এখন ঢাকা শহরে বুটিকের দোকান চালান। তিনি বললেন, মানুষের আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রমই বড় করে তোলে। শুরুর দিনগুলোর কথা মনে হলে এখন অবাক লাগে। মতিঝিলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) থেকে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নেয়ার পর সামান্য পুঁজি দিয়ে শুরু করেন তিনি। বেশিদিন আগের কথা নয়, ২০০৭ সালে সংসার জীবনের পাশাপাশি শুরু করেন নতুন উদ্যোগের। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। আঞ্জুমান আরা জানালেন, ‘একেবারে স্বল্প পরিসরে ৩০ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। তারপর আয় দিয়ে পুনরায় বিনিয়োগ করি। এভাবে পুঁজি বাড়িয়েছি। বড় বড় নামি-দামি ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মত পণ্য তৈরি করি। কিন্তু বেশি পুঁজি হলে আরো বড় পরিসরে কাজ করতে পারতাম।’ স্বামী আর ছোট ভাই তার কাজে সাহায্য করেন। দোকানের আয়ে নিজের সংসার চালিয়েও বর্তমানে দোলা ফ্যাশনে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার পুঁজি দাঁড়িয়েছে। নিজের সফলতার কথা বললেন আঞ্জুমান আরা। প্রতি মাসে দোকান ভাড়াসহ সব খরচাপাতি বাদ দিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। নিজের সন্তানদেরও পড়াচ্ছেন তুলনামূলক ভালো স্কুলে। তিনি জানান, ঈদ, পূজা বা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তাদের এখানে অর্ডার বা বিক্রি বাড়ে। এই সময়ে নিজেদের বাইরে বাড়তি কর্মচারীও নিয়োগ করতে হয়। ওই সময়ে বাড়তি পুঁজিরও প্রয়োজন হয়। পুঁজির সংস্থান করতে পারলে ব্যাপক সম্ভাবনাময় এই ব্যবসায় আরো উন্নতি করা যেত। কারণ, বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এসব পণ্যের ভালো চাহিদা রয়েছে। তার স্বামী দেলোয়ার হোসেন জানান, বিভিন্ন মেলা উপলক্ষে তাদের তৈরি করা থ্রি-পিস, সালোয়ার, ওড়নার চাহিদা বাড়ে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের দোকানেও দোলা ফ্যাশনের পণ্য বিক্রি হয়। প্রশিক্ষণ নিয়ে বড় হওয়ার এমন উদাহরণ প্রশংসনীয়। অনেকেই সাহস করেন, কেউ সাহস করতে পারেন না। তবে বাংলাদেশে নারীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব ঋণ পেতে যে ঝামেলা ও হয়রানি পোহাতে হয়, তা বরাবরই বিনিয়োগকারীদের নিরুত্সাহিত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বউদ্যোগী মহিলার সংখ্যা বাংলাদেশে অনেক বাড়ছে। এ উদ্যোগীদের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘ওয়ানস্টপ’ সেবা সুবিধা নিশ্চিত করলে হয়রানি কমতো। স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারতো হাজার হাজার পরিবার আর দেশের অগ্রগতিতে তা সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হতো।