অপহরণের ৮১ দিন পর মুক্তি, গল্পটা রহস্যময়

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৭
বন্দী আস্তানা থেকে ৮১ দিন পর মুক্তি পেয়েছে আমার আদরের একমাত্র নাতি শামসুর রহমান মিমু (২৫)। আর তাকে ফিরে পেয়েছি, এতেই আমার আনন্দ। কে নিয়েছিল, কারা নিয়েছিল জানতে চাই না। কারো বিরুদ্ধে করতে চাই না আর কোন অভিযোগ। তবে সবকিছুর ভার আল্লাহর উপরই ছেড়ে দিয়েছি। কথাগুলো রাজধানী থেকে অপহূত মিমুর নানা পুরনো ঢাকার বাসিন্দা আমির মিয়ার (৬৫)। কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মিমু। পেশায় প্রাইভেটকার চালক। গত ১০ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে অপহূত হয় মিমু। এ ঘটনায় বনানী থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করা হয়। অপরদিকে মিমু অপহরণের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। আমির মিয়া বলেন, আমরা ধরেই নিয়েছিলাম মিমুকে আর ফিরে পাব না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থাসহ অনেক এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়েও তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। সব আশা নিরাশায় পরিণত হওয়ার পর মিমু গত সপ্তাহে বাসায় ফিরেছে। কীভাবে ফিরে এল-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কালো পোশাকধারী লোকজন তাকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটক করে রেখেছিল। তারাই তাকে মাইক্রোবাসে করে গত ৩১ মার্চ রাতে পুরনো ঢাকায় ছেড়ে দেয়। আর মুক্তি পাওয়ার পর পরই তাকে কুষ্টিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মিমু পেশায় প্রাইভেটকার চালক। অপহূত হওয়ার এক সপ্তাহ আগে (গত ৪ জানুয়ারি) বিয়ে করে। ঘটনার দিন সকালে কুষ্টিয়া থেকে মিমু তার পুরনো ঢাকার ৭৭, হোসেনী দালান রোডের বাসার উদ্দেশে বের হয়। রাতে মহাখালী থেকে মিমুকে কতিপয় অস্ত্রধারী মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। মিমুর বিরুদ্ধে কোন মামলা ছিল-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, তার বিরুদ্ধে কোন মামলা ছিল না। কোন সময় পুলিশ তাকে আটক করেনি। কোন শত্রুমিত্র আছে কী-এমন প্রশ্নের ব্যাপারে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। ৮১ দিন মিমু কোথায় ছিল?-এমন প্রশ্নের জবাবে আমির মিয়া বলেন, মিমু শুধু বলেছে, এ সময় তাকে বিভিন্ন স্থানে চোখ বেঁধে রাখা হয়েছে। কিন্তু কোথায় রাখা হয়েছে, তা সে জানাতে পারেনি। শুধু বলেছে, যারা ধরেছে তারা কালো পোশাকধারী। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুক্তি পাওয়ার পর পরই মিমু কুষ্টিয়া চলে যাওয়ায় বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, মিমু ফিরেছে, এটাই শেষ কথা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, মিমুর নিখোঁজ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন ধূম্রজালে। কারণ তাকে কেউ অপহরণ করার কোন কারণও তারা খুঁজে পাননি। একমাত্র মিমুই বলতে পারবে আসল ঘটনা কোনটি। উল্লেখ্য, মিমু নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছিল, র্যাব তাকে আটক করেছে। কিন্তু র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিমু নামে কাউকে র্যাব আটক করেনি।