সায়াদ হত্যা :ছুটির দিনেও উত্তপ্ত বাকৃবি ক্যাম্পাস

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০১
শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সায়াদ ইবনে মমতাজের হত্যাকারীদের উপযুক্ত বিচার ও ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনেও আন্দোলনে উত্তাল ছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাস। গতকাল আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পৃথক বিক্ষোভ-মিছিল করে ছাত্রলীগ। এদিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই তাকে মেরেছে বলে সায়াদ মৃত্যুর পূর্বে মোবাইলে তার বড় ভাই মোয়াজকে বলে গেছেন বলে জানা গেছে। সায়াদের ঘাতকদের শাস্তির দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য ‘বিজয় ৭১’ এর পাদদেশে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, সায়াদ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলকে চিহ্নিত করে আগামী রবিবার ১০টার মধ্যে আজীবনের জন্য বহিষ্কার ও উপযুক্ত বিচার করতে হবে। তা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এসময় শিক্ষক সমিতি নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য শিক্ষকরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে মিছিলে অংশ নেন। এদিকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমিতির চলমান আন্দোলনের কারণে আগামী সোমবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই হল ছেড়ে বাসায় চলে গেছেন। এছাড়া চলমান আন্দোলনে ছাত্রদের অংশগ্রহণ না করার জন্য ছাত্রলীগ নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। ‘ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরাই আমাকে মেরেছে’ নিহত সায়াদ ইবনে মমতাজ এর বড় ভাই মোয়াজ ইবনে মমতাজ গতকাল শুক্রবার ইত্তেফাককে বলেন, আমার ছোট ভাই সায়াদ যেদিন মারা যায় (গত মঙ্গলবার), সেদিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে বেডে থাকার সময় তার সাথে মোবাইলে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। সায়াদ মৃত্যুর পূর্বে তাকে বলেছিল, ‘ভাই, হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই আমাকে মেরেছে। লাঠি-হকিস্টিক দিয়ে অকথ্যভাবে নির্যাতন করেছে। এখন আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ভাই, আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান। আমাকে বাঁচান ভাই।’ এরপর সায়াদকে ময়মনসিংহ হাসপাতাল থেকে পাশের বেসরকারি ক্লিনিক ‘ট্রমা সেন্টারে’ কে বা কারা নিয়ে গেলে বেলা ১১টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এদিকে ছাত্রলীগের সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে নি। মূল অভিযুক্ত দুই আসামি সুজয় ও রোকনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে সায়াদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার দুই দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. মোহসীন আলী জানান, আশা করি নির্ধারিত সময়ে মধ্যে (৭ কর্মদিবস) তদন্ত শেষ করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রদান করতে পারবো।