অবিলম্বে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন হাওর অঞ্চলবাসীসহ ১৫টি পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, উত্তরবঙ্গকে বাঁচাতে হলে তিস্তার পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা প্রতিষ্ঠিত করতেই হবে। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে তিস্তা একটি মৃত নদী হতে চলেছে। বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে নীরব বলে তারা অভিযোগ করেন। সমাবেশে আন্তর্জাতিক নীতি অনুযায়ী তিস্তার পানির অববাহিকা ভিত্তিক বণ্টনের ওপর জোর দেয়া হয়।
বক্তারা তিস্তার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, তিস্তায় পানির অভাবে ৬০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি ফেটে চৌচির হয়ে আছে। প্রমত্তা এই নদী শুকিয়ে যাওয়ায় কোনো কোনো অংশ বালুচরে পরিণত হয়েছে। আবাদি জমিতে সেচ দেয়া যাচ্ছে না। পানি প্রবাহ না থাকায় তিস্তার নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে, তিস্তা শুকিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মত্স্যজীবী ও নৌ-শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তিস্তাপাড়ের মানুষকে না খেয়ে থাকতে হবে ও সামাজিক বিপর্যয় দেখা দেবে।
সমাবেশে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প থেকে অভিন্ন নদী গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রকে বাদ দেয়ার আহ্বান জানান। তারা তিস্তা ও বরাক নদীসহ অভিন্ন সবগুলো নদীর ওপর ভারতের একতরফাভাবে ড্যাম ও ব্যারেজ নির্মাণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভুঁইয়া, সিপিবি’র কেন্দ শাহাদাত, হাওর অঞ্চলবাসী ঢাকার আহ্বায়ক শামসুদ্দোহা শোয়েব, কেন্দ ীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হালিমদাদ খান ও সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক শরিফ জামিল, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি প্রকৌশলী ইমরান হাসান রুমন প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন তিস্তা নদী সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম ফরিদ।
