পরিকল্পনা করেই বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছিল সংঘ পরিবার

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৩
পরিকল্পনা করেই বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছিল সংঘ পরিবার, এমন বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে ভারতের অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম কোবরা পোস্টের একটি ‘স্টিং’ প্রতিবেদনে। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর রাম জন্মভূমি আন্দোলনের নামে ষোড়শ শতকের স্থাপত্য বাবরি মসজিদকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ধর্মান্ধ কিছু লোক। এতদিন পর্যন্ত দাবি করা হত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া একদল উন্মত্ত জনতাই নাকি ঐতিহাসিক এই স্থাপত্য ধ্বংসের জন্য দায়ী। কিন্তু কোবরা পোস্টের ২৩ জনের উপর করা একটি স্টিং অপারেশন বদলে দিল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের নেপথ্য কাহিনী। এই স্টিং অপারেশনে দাবি করা হয়েছে সংঘ পরিবার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের নীল নকশা তৈরি করেছিল অনেক আগেই। উন্মত্ত জনতা নয়, সেই নকশার বাস্তব রূপ দিয়েছিল আসলে সংঘ পরিবারের স্বেচ্ছাসেবকরাই। কোবরাপোস্টের তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, রামজন্মভূমি আন্দোলনের মুখ্য চরিত্র সাক্ষী মহারাজ, আচার্য্য ধর্মেন্দ্র, উমা ভারতী, মহান্ত বেদান্তী, বিনয় কাটিয়ার সঙ্গেই শীর্ষ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, উত্তর প্রদেশের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং এমনকি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও সংঘ পরিবারের বাবরি ধ্বংসের পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই জানতেন! কোবরাপোস্টের সহকারী সম্পাদক কে আশিস উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা, ফৈজাবাদ, তান্ডা, লক্ষ্নৌ, গোরখপুর, মথুরা, মোরাদাবাদ সহ জয়পুর ঔরঙ্গাবাদ, মুম্বাই, গোয়ালিয়র ঘুরে ঘুরে এমন ২৩ জনের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন যারা বাবরি মসজিদ ধ্বংস কাণ্ডে প্রতক্ষ্যভাবে জড়িত ছিলেন। আশিস এই ২৩ জনের সঙ্গে তার কথোপকথন রেকর্ড করেছেন। যদি এই ২৩ জনের দাবি সত্যি হয় তাহলে বোঝা যাচ্ছে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের নেতা ও কর্মীরা মাসের মাসের পর মাস ধরে গোপনে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরিকল্পনা করেছিলেন। স্বেচ্ছাসেবকদের রীতিমত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ছক করে ঘটনাটিকে এমন ভাবে সাজানো হয় যাতে মনে হয় কিছু উন্মত্ত লোক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য দায়ি। রীতিমত সামরিক কায়দায় সমগ্র পরিকল্পনাটিকে বাস্তব রূপ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিজেপি এই স্টিং অপারেশনের তীব্র সমালোচনা করেছে। এর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা অভিযোগ করেছে, এটা কোবরাপোস্ট নয়, এটা কংগ্রেস পোস্ট। কারণ নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে এই প্রতিবেদন কংগ্রেসকে ভোটের সুবিধা দিতে তৈরী করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কোবরাপোস্ট অনুসন্ধানী সংবাদের এক শক্তিশালী গণমাধ্যম। এর সাংবাদিকরা হাতেনাতে যোগাড় করা এমন সব তথ্যপ্রমাণ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরী করেন (যা স্টিং নামে পরিচিত) যা প্রকাশিত হবার এর সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে পারে খুব কম লোকই।