ফেরি স্বল্পতা

ভোলার ইলিশাঘাটে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার তরমুজ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৪
ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ-পথে ফেরি সঙ্কটের কারণে দেশের মানুষ দ্বীপ জেলা ভোলার সুস্বাদু তরমুজের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে এ রুটে ফেরি সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার ইলিশা ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তরমুজ বোঝাই একশ পঞ্চাশটি গাড়ি আটকা পড়ে আছে। গাড়িগুলোর মধ্যে কোটি কোটি টাকার তরমুজ পচতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে না পারায় বেপারিরাও কৃষকদের কাছ থেকে তরমুজ কিনছেন না। ফলে তরমুজ চাষিরা পড়েছেন বিপাকে। কুমিল্লা সদর থেকে আসা বেপারি আবুল কাশেম, ভৈরবের বেপারি জামাল উদ্দিন, ঢাকার শেখ ফরিদ আহম্মেদ, মুন্সীগঞ্জের ফজলুর রহমান, চরফ্যাশনের মো. রিপন, কুমিল্লার মো. মফিজ, চট্টগ্রাম ফিরিঙ্গি বাজারের মো. ফিরোজ, সাতকানিয়ার মো. শাহজাহান অভিন্ন কণ্ঠে বলেন, ঘাটে আটকা পড়া প্রতিটি ট্রাকে ২-৩ লাখ টাকার তরমুজ রয়েছে। সেই হিসাবে আটকা পড়া মোট একশ পঞ্চাশ ট্রাকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার তরমুজ আছে। তরমুজবাহী ট্রাকের এক চালক চাঁন মিয়া বলেন, ফেরি সঙ্কটের পাশাপাশি ফেরির চালকদের অলসতার কারণে দ্রুত যান পারাপার সম্ভব হচ্ছে না। অন্য চালকরা জানান, ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ-পথে ফেরি প্রয়োজন কমপক্ষে ৫টি। বর্তমানে সেখানে একটি বা সর্বোচ্চ ২টি ফেরি চলাচল করছে। জানা গেছে, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের একুশটি জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ-পথে যাতায়াত করে। কিন্তু ফেরি সঙ্কটের কারণে গত সাতদিন ধরে ইলিশা ফেরিঘাটে প্রায় দুইশ যানবাহন আটকা পড়ে আছে। ইলিশাঘাট শুরু থেকেই লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও এখানে ফেরি সঙ্কট চলছে বলে স্বীকার করেছেন বিআইডব্লিউটিসি’র স্থানীয় ব্যবস্থাপক আবু আলম। তবে জানা গেছে, এ ঘাটের জন্য ফেরি তৈরি করা আছে। যথাসময়ে সেটি চালু করা হবে বলে বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এদিকে পাইকাররা না কেনায় ভোলার কৃষকরা তরমুজ কেটে ক্ষেতেই স্তূপ করে রাখছেন। চরফ্যাশনের আবদুল্লাপুর ৫ নং ওয়ার্ডের তরমুজ চাষি আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আল্লাতালায় তরমুজ দিয়া মনপুরাইয়া দিলেও ফেরির জন্য বেপারিরা তরমুজ কিনতে ভয় পাচ্ছে।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক শান্তি রঞ্জন মন্ডল বলেন, এবার ভোলায় প্রায় এক হাজার তিনশ’ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়। প্রতিহেক্টরে ফলন হয়েছে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন, যা বাম্পার ফলনের কাছাকাছি। তবে প্রতি মৌসুমেই ফেরি সঙ্কটের কারণে যথাসময়ে তরমুজ সারা দেশে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।