নাব্যতা হারিয়ে শীর্ণকায় নাগেশ্বরীর প্রায় সকল নদ-নদী। কমে গেছে পানি প্রবাহ। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর, শংকোষ, ফুলকুমারের বুক যেন খাঁ খাঁ করছে। জেগে উঠেছে অসংখ্য চর।
ভারতের কোচবিহারে প্রবাহিত কালজানি ভুরুঙ্গামারীতে সংকোষ নামে প্রবেশ করে আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নে দুধকুমার নাম ধারণ করে নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, বল্লভেরখাস ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের বুক চিরে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের কুচবিহার জেলায় প্রবাহিত খুটামারী নদী ভুরুঙ্গামারী দিয়ে প্রবেশ করে ফুলকুমার নাম ধারণ করে নাগেশ্বরীতে এসে দুধকুমার নদে মিলিত হয়েছে। এর অপর অংশটির নাম গংগাধর। নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর দিয়ে এদেশে প্রবেশ করেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। আঁকাবাঁকা ও দীর্ঘ সময় পলি জমে গভীরতা কমে গিয়ে খরস্রোতা হওয়ায় বর্ষায় ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি এ নদ-নদীগুলোর নাব্যতা কমে গেছে। অপরদিকে উজানে ভারতের গজলডোবা নামক স্থানে বাঁধ দেয়ায় পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে নদ-নদীগুলোর চিরচেনা রূপ। শুকনো মৌসুমে শান্ত ও শীর্ণকায়। কোথাও হাঁটু পানি। উভয় তীরে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ বালুচরে চাষাবাদ হচ্ছে। বর্ষায় অশান্ত হয়ে প্রকৃতিতে ধ্বংসযগ্যে চালায়। বালুর স্তর জমে অনেক আবাদী জমি হয়ে গেছে অনাবাদী। প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে নাগেশ্বরীর মানচিত্র।
