প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কাউটদের উদ্দেশে বলেছেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে তোমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে এ দেশকে তোমরাই নেতৃত্ব দিবে। তাই শিক্ষা, মেধা, মনন ও সততার সংমিশ্রণে নিজেদের তৈরি করতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার সকালে গাজীপুরের মৌচাক জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দে নবম বাংলাদেশ ও প্রথম সার্ক স্কাউট অর্গানাইজেশন (সানসো) স্কাউট জাম্বুরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। ‘শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য স্কাউটিং’ এই থিমকে সামনে রেখে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি আব্দুল করিম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কাউটের মূল মন্ত্রই হচ্ছে সদা প্রস্তুত। আমি আশা করবো, তোমরা এ মূল মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য সদা প্রস্তুত থাকবে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তোমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজেদের আধুনিক বিশ্বের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দক্ষ তথ্য প্রযুক্তিবিদ তৈরির লক্ষ্যে আমাদের সরকার স্কুলগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাদানের জন্য কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ চালু করা হয়েছে। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে বাংলাদেশ স্কাউটস সব সময় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তাই সরকার স্কাউটিংয়ের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্কাউটের সংখ্যা এখন ১৩ লাখ, যা জনসংখ্যার তুলনায় খুব একটা বেশি নয়। স্কাউটসের গুণগত মান অক্ষুণ্ন্ন রেখে এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি স্কাউট নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত দু’টি করে স্কাউট দল খোলার পরামর্শ দিচ্ছি।
স্কাউটিংয়ে মেয়েদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৬৭ জন। এজন্য প্রধানমন্ত্রী স্কাউটসকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, স্কাউটিংয়ে মেয়েদের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে, এজন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আমরা দেব।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্কাউটদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ ডিসপ্লে উপভোগ করেন ।
সাত দিনব্যাপী এই জাম্বুরি শেষ হবে আগামী ১১ এপ্রিল। জাম্বুরিতে সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও নেপালের ২৭ জন স্কাউট ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজের প্রায় ৯ হাজার স্কাউট প্রশিক্ষণার্থী ও কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। জাম্বুরিতে স্কাউটিং-এর নানা বিষয়ের উপর অংশগ্রহণকারীদেরকে হাতে-কলমে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার মো. আবুল কালাম আজাদ, জাম্বুরির সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি মো. হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এনডিসি। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আক্তারউজ্জামান, জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল ইসলামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
