চার বছরে রাবির সাত ছাত্রলীগ নেতা খুন

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৩
গত চার বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের সাত নেতা খুন হয়েছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হয়েছেন দুই জন। বাকী পাঁচটি ঘটনার জন্য শিবিরকে দায়ী করেছে ছাত্রলীগ। এদের মধ্যে পাঁচ জন ক্যাম্পাসে, একজন গাইবান্ধায় এবং একজন ঢাকায় নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ছাত্রলীগের ১২ নেতাকে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হলেও আসামিদের গ্রেফতার করা হয়নি। মামলার তদন্ত চলছে ঢিমেতালে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের ঘটনাগুলোর বিচার না হওয়ায় নতুন করে হত্যার ঘটনা ঘটছে। নগরীর মতিহার থানার ওসি এবিএম রেজাউল ইসলাম বলেছেন, তিনি এই থানায় নতুন এসেছেন। গত কয়েক বছরে মতিহার থানার প্রায় দুই ডজন ওসি বদলি হয়েছেন। মামলাগুলোর তদন্তের কী অবস্থা কাগজপত্র না দেখে কিছু বলা সম্ভব নয়। গত শুক্রবারই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ২৩০ নম্বর কক্ষে দুর্বৃত্তের গুলিতে হল শাখা ছাত্রলীগ যুগ্ম-সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী আকন্দ নিহত হয়েছেন। সূত্র জানায়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রলীগের কমিটির জন্য আগামী ১০ এপ্রিল কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারিত ছিল। নিহত রুস্তম ওই হলের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। জানা গেছে, হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিনসহ ১২ জন এখন চরম দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে। এসব ঘটনার জন্য ছাত্রলীগ ছাত্র শিবিরকে দায়ী করেছে। এর আগে গত বছরের ১৪ এপ্রিল ছাত্রলীগ নেতা রবিউল ইসলাম রবিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই গভীর রাতে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল হাসান সোহেল। ২০১০ সালের ১৫ আগস্ট ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে শাহ্ মখদুম (এসএম) হলের দোতলা থেকে নীচে ফেলে দেয় ছাত্রলীগ নেতা নাসরুল্লাহ নাসিমকে। আট দিন চিকিত্সাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা শাহ্ মখদুম হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা ফারুক হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ম্যানহোলে ফেলে দেয়। একই রাতে ছাত্রলীগের সাইফুর রহমান বাদশা, ফিরোজ মাহমুদ, আরিফুজ্জামান ও শহিদুল ইসলামের হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যার চেষ্টা করে ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা। এছাড়া গত ১৪ নভেম্বর গাইবান্ধার নিজ গ্রামে ছাত্রশিবিরের হাতে খুন হন শাহ্ মখদুম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান মামুন এবং চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় খুন হন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সভাপতি মাহাবুর রহমান রতন। এ ব্যাপারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, আব্দুল্লাহ আল হাসান সোহেল ও নাসরুল্লাহ নাসিম নিজেদের (দলীয়) কোন্দলের কারণে মারা গেছেন। তবে ফারুক, রবিউল, মামুন, রতন ও রুস্তমকে ছাত্র শিবির পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, রুস্তম ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের একজন জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। ছাত্র শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের হল ছাড়তে বলায় তারা রুস্তমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন। শিবিরের প্রতিবাদ ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় কোন মামলা হয়নি। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি। এদিকে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ইসলামী ছাত্রশিবির একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম হত্যাকাণ্ডে ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করা হয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়-রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে সভাপতি গ্রুপ এবং সেক্রেটারি গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছিল। শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ করে দ্বন্দ্বের কারণে গুলি করে হত্যা করা হয় রুস্তম আলী আকন্দকে।