প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে যাতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থান না ঘটে সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভয়াবহ পরিস্থিতি যাতে মোকাবেলা করতে না হয় সেজন্য এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য এটি করা প্রয়োজন। যাতে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হতে না পারে।
গতকাল শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ নির্বাচনে যদি কারচুপি কিংবা প্রভাব বিস্তার করা হতো তাহলে সাঈদী পুত্রসহ জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হতে পারতো না। এতগুলো ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াত কিভাবে জয়ী হয়?
এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ধর্মের নামে বিকৃত রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ যাতে না ঘটে সেজন্য সজাগ থাকতে হবে। নইলে আফগানিস্তান, সিরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকেও পড়তে হতে পারে। আর এগুলো যদি মোকাবেলা করতে না পারি তাহলে দেশের স্বাধীনতা ম্লান হতে পারে। স্বাধীনতা বিরোধীরা যে বিভিন্ন সাইবার অপরাধে যুক্ত সে ব্যাপারে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, সাইবার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। স্বাধীনতা ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীরা সাইবার অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রচারে তরুণ প্রজন্ম যাতে বিভ্রান্ত না হয় সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এ নিয়ে যাতে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দৈনিকের ব্লগে ঢুকতে হলে রেজিস্ট্রেশন লাগে। অথচ ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশের বেশির ভাগ বহুল প্রচারিত ইংরেজি ও বাংলা জাতীয় দৈনিকের ওয়েবসাইটে গেলে দেখা যায় ম্যাক্সিমাম ব্লগার শিবিরের ও মৌলবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, যে কোন বিষয়ে ভোট দিলে দেখবেন ৯০ শতাংশ ওদের, বাকি ১০ শতাংশ ভোট আমাদের পক্ষে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আগামী ১৪ এপ্রিল শুভ নববর্ষ, ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস, মে দিবস, ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও ২৫ মে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। এছাড়া শোক প্রস্তাব গৃহীত এবং দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।
উপজেলা নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ
ব্যাখ্যা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যেসব আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে সেখানকার ফলাফল, মূল্যায়নসহ সার্বিক রিপোর্ট লিখিত আকারে দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের সাত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাত সাংগঠনিক সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছেন। কোন কোন উপজেলায় কী কী কারণে পরাজয় হয়েছে তা ওই রিপোর্টে থাকতে হবে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী বৈঠকে এসব রিপোর্ট উপস্থাপনের সময়সীমা বেধে দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত অনুষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করে মিথ্যাচার করেছে। এটা একটা জঘন্য অপরাধ। নতুন প্রজন্ম যাতে বিভ্রান্ত না হয় সেজন্য তিনি প্রকৃত ইতিহাস উপস্থাপন করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা দলের ভিতরে থেকে দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়ায় লেখালেখি করায় তারা দলের মঙ্গল চান না। দলের জন্য কাজ করতে হলে মন দিয়ে কাজ করতে হবে।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষণা ও জাতীয় সংগীত এসব নিয়ে যাতে কেউ কটাক্ষ কিংবা অবমাননা করতে না পারে সেজন্য নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।
