বরিশালে ইলিশ সঙ্কট

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৮
বাংলা নববর্ষের বাকী এক সপ্তাহ। অথচ বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে এখনই এখানকার বাজারে ইলিশের মূল্য আকাশচুম্বী। নববর্ষের ভোরে পান্তা ভাতের সাথে তাজা ইলিশ যে কারো চাই। মানুষের এ ইচ্ছাকে পুঁজি করেই দালাল-ফড়িয়ারা ইলিশ মজুদ করতে দক্ষিণাঞ্চলের মোকামগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় পাইকার ও আড়ত্দাররা মজুদ প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে নেই। সৌখিন ক্রেতারাও তাজা ইলিশের স্বাদ পেতে ছুটছেন ইলিশ বিক্রির আড়ত্ ও পাইকারি বাজারে। নববর্ষের দিন-ক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ইলিশের দাম বাড়ছে। গতকাল শনিবার মত্স্য আড়ত্গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। গতকাল পোর্ট রোডের মত্স্য আড়ত্গুলোতে সবচাইতে বড় সাইজের দেড় কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে এক লাখ টাকার উপরে। এক কেজির উপর এবং দেড় কেজির চেয়ে কম সাইজের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৯০ হাজার টাকায়। এক কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি মণ ৭৫ হাজার টাকা। ৬শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ পূর্বে এর মূল্য ছিল প্রতি মণ ১৯ থেকে ২১ হাজার টাকা। এলসি’র মাধ্যমে ভারতীয় পাইকাররা এ সাইজের ইলিশ আমদানি করায় এখানকার মত্স্য আড়ত্ ও পাইকার থেকে শুরু করে সকলের কাছে ‘এলসি সাইজ’ হিসাবে পরিচিত এ ইলিশ। তবে ইলিশের পালে বৈশাখী হাওয়া লাগার কারণে রপ্তানির কথা ভুলে দেশি বাজার সামাল দিতেই ব্যস্ত পাইকার ও আড়ত্দারসহ মত্স্য ব্যবসায়ীরা। বাজার ঘুরে বড় সাইজের ইলিশের দেখা মেলেনি। ছোট সাইজের ইলিশের উপস্থিতিও খুব কম। সরকারি নিষেধাজ্ঞায় নদ-নদী জাটকা শিকার বন্ধ, অপরদিকে নববর্ষে ইলিশের চাহিদা মাছের বাজারে রীতিমত আগুন জ্বেলে দিয়েছে। অনেক ক্রেতা দাম শুনেই খালিহাতে বাজার থেকে ফিরে আসছেন। বাজারে আসা পাইকার ও মত্স্য শিকারীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও বঙ্গোপসাগর থেকে হাতেগোনা যেসব ট্রলার ইলিশ নিয়ে নগরীর পোর্টরোড ঘাটে আসছে তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন পাইকার, ফড়িয়া ও ক্রেতারা। এরা এখন মোকাম ঘুরে ঘুরে লাখ টাকা মূল্যের বড় সাইজের ইলিশের পাশাপাশি ছোট সাইজের ইলিশ ক্রয় করে মজুদ করছেন। কলাপাড়া মোকাম থেকে ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি মণ ৩৮ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকায় ক্রয় করছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে এসব সাইজের ইলিশ প্রতি মণ কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করবেন চৈত্র সংক্রান্তির আগেই। গলাচিপাসহ যে বিভিন্ন মোকাম থেকে ছোট সাইজের ইলিশ আড়াইশ’ থেকে ৫শ’ টাকা কেজি দরে ক্রয় করা হচ্ছে ঢাকায় নিয়ে এসব ইলিশ ৭শ’ থেকে ৯শ’ টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি বিক্রির টার্গেট দালাল-ফড়িয়াদের। নগরীর খুচরা বাজার থেকে এককেজি ওজনের একটি ইলিশ ক্রয় করতে ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা গুণতে হচ্ছে। তবে মাছের ওজন যদি দেড় কেজি হয়ে যায় তাহলে প্রতি কেজি দিতে হচ্ছে প্রায় দু’ হাজার টাকা। দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্ মত্স্য বন্দর পাথরঘাটায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেখানেও বড় সাইজের ইলিশের আকাল চলছে। পাথরঘাটা, আলীপুর, মহিপুর, ঢালচর, চর পাতিলা, শশীগঞ্জ ও মনপুরাসহ ছোট মোকামগুলো থেকে বরিশালের বাজারে ইলিশ আসে না। ফলে এখানে সংকট বেশি। দাম নিয়েও বিশৃঙ্খলা চলছে। ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে যে-যার ইচ্ছা মত দাম রাখছেন। তাজা ও বড় সাইজের ইলিশ হলেই ইচ্ছা মাফিক দাম আদায় করা সম্ভব। স্থানীয় পাইকাররা জানিয়েছেন চৈত্র সংক্রান্তি পর্যন্ত বর্ষবরণ উপলক্ষে ইলিশের মূল্য বাড়তেই থাকবে। পাইকার-ফড়িয়াদের পাশাপাশি সৌখিন ক্রেতারা আকাল সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বুঝতে পেরে আগেভাগেই ইলিশ কিনে ফ্রিজ ভর্তি করছেন। আবার বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান বর্ষবরণে পান্তা ইলিশের আয়োজন করতে আগেভাগেই ইলিশ কিনে জমা করছেন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ছাড়াও ঠিকাদার ব্যবসায়ীরা চড়া দামে এ ইলিশ ক্রয় করে ঢাকার ভিআইপিদের উপঢৌকন হিসাবে পাঠাচ্ছেন। ফলে এখানে ইলিশের মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। প্রতিদিন যেভাবে ইলিশের মূল্য বাড়ছে তাতে পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত মূল্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা বোঝা মুশকিল।