সালমাদের হাত ধরে আসলো সাফল্য

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৪২
ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এখনো বলতে গেলে শৈশব কালই অতিক্রম করছে বাংলাদেশ। আর সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাও। আর সেই ক্রিকেট উন্মাদনা চূড়ায় পৌঁছেছে দেশের মাটিতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে। চার, ছক্কা আর উইকেটের মাঝে আনন্দ-বেদনা খুঁজতে শুরু করেছেন ছেলে-বুড়ো সবাই। সাকিব-তামিমদের ব্যর্থতায় টুর্নামেন্ট শেষে ভারী বেদনার পাল্লাই। তবে পুরুষ দলের ব্যর্থতার মিছিলে হতাশ দেশবাসীর হূদয়ে একটু হলেও আনন্দের পরশ বুলিয়েছে মহিলা দলের সাফল্য। অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের সাথে পাল্লা দিতে না পারলেও সালমা খাতুনের দল হারিয়েছে শক্তিশালী শ্রীলংকা ও আয়ারল্যান্ডকে। সাম্প্রতিক সময়ে সাকিব, তামিম আর মুশফিকদের পাশাপাশি সালমা, রুমানা ও শারমিনদের নামও উচ্চারিত হচ্ছে। কারণ তারাও ক্রিকেটে ভালো ভালো খবর আনতে শুরু করেছেন। ক্রিকেটে নারীদের স্বীকৃতি আসতে শুরু করেছে ২০১১ সাল থেকে। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ৮২ রানে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছে ওয়ানডে মর্যাদা। এবার নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয় ও হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পেয়েছে বাংলার নারীরা। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে। একই সাথে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে নবম স্থান দখল করেছে। একক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন। সর্বশেষ প্রকাশিত আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে অলরাউন্ডার বিভাগে বিশ্বের দ্বিতীয়। আর বোলিং পারফরম্যান্সে বিশ্বে তিন নম্বর স্থানে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের মতো সামাজিক পরিবেশে নারীদের ক্রিকেট খেলা মোটেও সহজ কাজ নয়। আমাদের সমাজ এখনও নারীদের মাঠে খেলতে যাওয়াকে সহজভাবে দেখতে পারে না। খেলাধূলার পোশাক নিয়েও অনেকে সমালোচনা করেন। নারী ক্রিকেট নিয়ে অনেক মানুষেরই ইতিবাচক ধারণাও নেই। তার মধ্যেও ক্রিকেটে নারীদের এগিয়ে যাওয়া সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমাদের নারী ক্রিকেটারদেরকেও নানা প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়েছে। তবে তারা তা কাটিয়ে উঠেতে পেরেছেন। কারও কারও পরিবারে নারীদের ক্রিকেট খেলাকে স্বতস্ফূর্তভাবে দেখলেও এ সংখ্যাটা নিছক কম। তবে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশের ছেলেরা জয় পেতে ব্যর্থ হলেও নারীরা এনে দিয়েছে আনন্দের উপলক্ষ্য। কিন্তু এ নিয়ে মানুষের মধ্যে খুব একটা উচ্ছ্বাস নেই। অথচ বিশ্বব্যাপী নারীদের খেলাধূলার প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকে অনেক বেশি। আর তাই সব দেশেই পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও খেলায় এগিয়ে যাচ্ছেন। নিয়ে আসছেন দেশের জন্য সম্মান। আমাদের নারীদেরও ক্রিকেটে এগিয়ে যেতে হলে সমাজের উত্সাহ, উদ্দীপনা ও সাহস যোগানোর প্রয়োজন রয়েছে। সমাজের উত্সাহ পেলে নারীদের সাফল্যগাঁথা আরও দীর্ঘ হবে, দেশের নামও হবে উজ্জ্বল।