ত রু ণী ক থা ........................

শোভন শাহমিন দিশা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৪৫
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করছি ২০১২ সাল থেকে। ইচ্ছেটা অনেক দিনের পুরনো। মেয়েদের জন্য সাংবাদিকতা পেশাটি সম্ভাবনার বলেই শুনেছি। তবে সাহস করে সাংবাদিকতায় আসবেন এমন মেয়ের সংখ্যা হাতে গোনা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রথম বর্ষে ৭০ জন ছিলাম আমরা। আর মেয়ে ছিলাম মাত্র ১১ জন। পরের বছর ভর্তি হলো মাত্র ৪ জন মেয়ে। ছেলে এবং মেয়ের এই সংখ্যাটাই জানান দেয়, সাংবাদিকতায় মেয়েদের আগ্রহ আসলেই কিছুটা কম। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বলার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয়, সাংবাদিকতায় পড়লেই সাংবাদিক হওয়া যায় না। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি থাকা চাই চর্চা। তবেই সাংবাদিকতায় ভালো করা সম্ভব। বিভাগে ইন্টার্নশীপ চালু করলে ছাত্র-ছাত্রীরা সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ পেত। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার একটা ভালো দিক হলো পুঁথিগত জ্ঞানের পাশাপাশি নিয়মিত সাংবাদিকতা চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। ‘ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা’ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ ইতিবাচক বলেই মনে করি। আমি যখন ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা শুরু করি, তখন আমিই ছিলাম একমাত্র মেয়ে। কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে সেটা উতরে উঠতে পেরেছিলাম। সাংবাদিকতা সবসময় চ্যালেঞ্জর। আমিও সেভাবেই নিয়েছি। বইয়ের পড়ার সঙ্গে কাজ যখন মিলে যায় বেশ মজা পাই। আবার কোন বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে যখন বইয়ের পড়াগুলো মিলে যায় তখন চোখের বেশ আরাম হয়। পড়াগুলো সহজ মনে হয়। প্রথম দিকে যখন স্পটে যেতাম তখন অনেকে বাঁকা দৃষ্টিতে তাকাতো। তখন খারাপ লাগতো। বিষয়টি বেশ অস্বস্তির ছিল। এটা একদিনেই পাল্টানো সম্ভব নয়। পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ। বদলাতে হবে সমাজ ব্যবস্থা। আমি স্বপ্ন দেখি এমন দিনের, যেদিন রাস্তায় মেয়েরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারবে। মেয়েরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে। ছেলেদের সঙ্গে সমান তালে কাজ করতে পারবে। বিশ্বাস করি, সেদিন আর সাংবাদিকতা বিভাগে মেয়েদের সংখ্যা কম হবে না। সাংবাদিকতায়ও মেয়েদের জয়জয়কার হবে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায়ও মেয়েদের আগ্রহ এবং উপস্থিতি বাড়বে।