আমাদের দেশে অনেক মেধাবী নারীরা আছেন যাদের খোঁজ আমরা জানি না, গণমাধ্যমে হাঁকডাক করে তাদের খবরও আসে না। কিন্তু তারা নিরবে তাদের মেধা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তাদের লেখনীর মাধ্যমে, কর্মের মাধ্যমে। তাদের একজন সৈয়দা কামরুন্নাহার শিল্পী। যার কবিতা ও সমকালীন নানা বিষয়ের লেখা মানুষের মনের গভীরে পৌঁছে দেয়। পৌঁছে দেয় এক অন্য বোধের দুয়ারে। শিশুদের জন্য তার লেখা ছড়াগুলো শিশুদের মুখের হাসি ও আনন্দের উত্স। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি কাজ করছেন নারী সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
কবি সৈয়দা কামরুন্নাহার শিল্পী ৫০ এর দশকে বৃহত্তর রংপুর জেলার সুন্দরগঞ্জের ছাইতেন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আলহাজ্ব সৈয়দ আবুল মকসুদ মিয়া ও মাতা মোঃ রওশন আরা বেগমের দ্বিতীয় কন্যা। ১২ বছর বয়স থেকে তিনি লেখালেখি শুরু করেন। তবে তার লেখার খবর সেই সময় তার পরিবার বা তার জীবনসঙ্গীকেও জানাননি। ক্লাস নাইনে পড়া অবস্থায় তার বিয়ে হয়ে যায় এবং তার বিয়ের অনেক বছর পর তার পরিবারের লোকেরা জানতে পারেন তার লেখার কথা। প্রতিবন্ধকতা যতটা ছিলো পারিপার্শ্বিকতা, তার চেয়ে অনেক বেশী ছিলেন তিনি নিজেই। কারণ তিনি ভেবেছেন যদি তার এই সাহিত্যচর্চার কথা কেউ জানতে পারেন তবে কি ভাববেন অন্যরা? এই লজ্জায় তিনি জানাননি। কিন্তু প্রতিভা আসলে চাপা থাকার নয় সেটা সময় বুঝে ঠিকই বের হয়ে আলোর মুখ দেখবে। আর তাই তার সন্তান, দেবর, স্বামী সবার সহযোগিতায় লুকিয়ে রাখা সাহিত্যচর্চাকে পূর্ণোদ্যমে শুরু করেন। এই পর্যন্ত তার বের হওয়া গ্রন্থের সংখ্যা ৮টি। তার লেখা হূদয়তৃষ্ণা, স্বপ্নময় নদী, মনের ফুল চোখের তারা, এইসব বইগুলোতে এক স্বভাব কবির আকুলতা টের পাই আমরা। তার আগ্রহের সীমানা কাব্য। কাব্য নির্মাণেই তিনি বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তার লেখায় আমরা মানুষের আবেগ, যাপিত জীবনের এক স্বচ্ছ আয়নায় কাব্যিক অনুভবকে টের পাই। এবার বইমেলায় বের হয়েচ্ছে গল্পগ্রন্থ ‘শ্যামল ছায়ার দিনগুলি’। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি নারীদের জন্য উন্নয়ন মূলক নানা কার্যক্রম এর সাথে জড়িত। তিনি মনে করেন একটি নারী শুধু তার ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম দিয়ে অনেকদূর যেতে পারেন, যদি তার পরিবারের সহায়তা থাকে। ব্যক্তি জীবনে কামরুন্নাহার শিল্পী। তিন ছেলে ও এক মেয়ের গর্বিত জননী। তার এই পর্যন্ত আসার পেছনে তার স্বামী, ছেলে, মেয়ে ও ছেলের বৌদের সহযোগিতা ছিলো অনেক বেশি। তিনি তার সংসার এর মালাটা যেভাবে গেঁথে চলেছেন সেই একই ছন্দে তিনি কবিতাকেও তার জীবনে অবিচ্ছেদ্য ভাবেই গেঁথে নিয়েছেন।
