নিজ দলের নেতা-কর্মীদের কাছে যদি নারী কর্মীরা নিগৃহীত হন, তবে তাদের ভরসার জায়গা থাকে সামান্যই। অথচ সেই ঘটনাই ঘটল বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও এবারের লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের প্রার্থী নাগমার। সমপ্রতি তিনি উত্তর প্রদেশের মেরঠ কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী নাগমা হাপুরে নির্বাচনী প্রচারে যান। সেখানে তার দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু ঘটে যায় এক হুলস্থুল কাণ্ড। নাগমার সঙ্গে কংগ্রেসের দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক গজরাজ শর্মা। কিন্তু গজরাজ তার নামের প্রতি অবিচার করে নাগমাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করতে থাকেন বার বার। হয়তো প্রিয় তারকাকে এত কাছে পেয়ে ছুঁয়ে দেখার লোভ সামলাতে পারেননি তিনি। নাগমা বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং তার দিকে বিরক্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু তারপরেও ওই বিধায়ক একই কাজ করে চলেন। ক্ষুব্ধ নাগমা কয়েকবার ওই নেতার হাত সরিয়ে দেন। একপর্যায়ে এই বলিউড তারকা ক্ষোভ প্রকাশ করে সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান। বিষয়টি সাংবাদিকদের কানে যেতেই সবাই নড়েচড়ে বসে। পরদিন ভারত ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশ করে নাগমার এই নিগৃহীত হবার ঘটনা। অনেক মহিলা সংগঠন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। তারা অভিযুক্ত বিধায়কের ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করে। তবে বিধায়ক গজরাজ বিপদ বুঝে পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেন। এই ঘটনার কয়েকদিন পর নাগমা আবারো নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে ভিড়ের মধ্যে সুযোগ সন্ধানীরা নড়েচড়ে বসে। তারাও নাগমাকে ‘ছুঁয়ে’ দেখতে চায়। ত্যক্তবিরক্ত হয়ে একজনকে কষে মারেন এক চড়! এরপর সোজা বাড়ি চলে চান। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কংগ্রেস। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিনা বাধায় প্রচার চালানোর অধিকার পুরুষ-নারী সবার আছে। কিন্তু নাগমার ক্ষেত্রে যা ঘটছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে উত্তর প্রদেশের পুলিশ আর ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। শনিবার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা নাগমাসহ কয়েকজন তারকা প্রার্থীকে নিরাপত্তা দিবেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটতে পারে।
