শতাধিক আরোহীসহ গায়েব মার্কিন বিমান
ভিয়েতনামে তখন চলছিল তুমুল যুদ্ধ। উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের মধ্যকার এই যুদ্ধে মার্কিনরা দক্ষিণের পক্ষ নেয় এবং উত্তরে চালায় একের পর এক আক্রমণ। যদিও সেই যুদ্ধের শেষ পরিণতি মার্কিনীদের জন্য সুখকর হয়নি। যুদ্ধ চলাকালে ১৯৬২ সালের ২৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ট্র্যাভিস বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন সৈন্য ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের বেশ কয়েকজন নাগরিককে নিয়ে ভিয়েতনামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় একটি সামরিক বিমান। গুয়ামে তেল ভরার পর বিমানটি সেখান থেকে উড়াল দেয়। গন্তব্য ছিল ফিলিপাইনস্থ ক্লার্ক বিমান ঘাঁটি। কিন্তু সেখানে আর পৌঁছানো হয়নি তাদের। ৯৬ জন যাত্রী ও ১১ জন ক্রুসহ পথেই উধাও হয়ে যায় বিমানটি। বিমানের কোন ধ্বংসাবশেষ বা আরোহীদের দেহাবশেষের কোন চিহ্নই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফ্লাইট ৭৩৯-এর সাথে সর্বশেষ রেডিও যোগাযোগের ঘন্টাখানেক পর আকাশে বড় ধরনের বিস্ফোরণের কথা জানায় তেলবাহী একটি জাহাজের কর্তৃপক্ষ। সূত্র বলতে কেবল ওইটুকুই। এটা কি কোন স্যাবোটাজ ছিল, নাকি কোন মিসাইল আঘাত হেনেছিল বিমানটিকে? নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি?- এ রহস্যের কিনারা করা আর সম্ভব হয়নি।
বিমান চুরির পর আরোহীসহ লাপাত্তা
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিভিত্তিক কোম্পানি অ্যারোস্পেস সেলস্ এন্ড লিজিং-এর কাছ থেকে একটি বোয়িং ৭২৭ বিমান লিজ নিয়েছিল অ্যাঙ্গোলার একটি প্রাইভেট এয়ারলাইনস কোম্পানি। ২০০৩ সালের ২৫ মে পাইলট সংকটের কারণে বিমানটি চালাবার দায়িত্ব গিয়ে বর্তায় ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার বেন চার্লস পাডিল্লার উপর। তাকে সহায়তার জন্য সাথে দেয়া হয় প্লেন মেকানিক জন মিকেল মুটান্টুকে। বেন চার্লসের ছোটখাট প্লেন চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও বিশাল বোয়িং চালানোর সুযোগ তার কখনও জোটেনি। আর জন মিকেল তো প্লেন চালানোর ব্যাপারে একেবারেই আনাড়ি। অথচ বোয়িং বিমান চালাতে কমপক্ষে তিনজন ক্রুর প্রয়োজন। তো সাহস করে বোয়িং নিয়ে আকাশে উড়াল দিলেন বেন চার্লস ও মিকেল। তারপরই ঘটলো বিপত্তি। কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে বিমানটির যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। বিমানসহ সম্পূর্ণ লাপাত্তা হয়ে গেল দুই ক্রু। কোথাও আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায় অ্যাঙ্গোলার ঐ এয়ারলাইনস কোম্পানির কাছে মোটা টাকা পাওনা ছিল বেন চার্লসের। সেই ক্ষোভ মেটাতেই হয়তো বিমানটি চুরি করে সে। কিন্তু এত বছরেও সেই বিমান বা ক্রু দু’জনের কোন কূলকিনারা না পাওয়ায় ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত রহস্যজনক অন্তর্ধানের তালিকাতেই স্থান করে নিয়েছে।
কুখ্যাত বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে ১৪ আরোহীসহ গায়েব
৫ মার্কিন জঙ্গি বিমান
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর মার্কিন নৌবাহিনীর ৫টি বোমারু বিমান দুর্ভাগ্যবশত ঢুকে পড়ে আটলান্টিক মহাসাগরের কুখ্যাত বারমুডা ট্রায়াঙ্গালের ভেতরে (ফ্লোরিডা, বারমুডা দ্বীপ ও পুয়ের্তো রিকোর মধ্যবর্তী ৫ লাখ বর্গমাইল বিস্তৃত জলভাগ)। ঐ এলাকায় প্রবেশ করামাত্র ৫টি বিমানেরই কম্পাসসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে একযোগে গোলযোগ দেখা দেয় (পাইলটদের বেতার বার্তা অনুযায়ী)। ঘন্টা দুয়েক এ অবস্থা চলে। তারপরই বার্তা প্রেরণ বন্ধ হয়ে যায়। সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যায় ১৩ জন ক্রুসহ ৫ বিমান। এর ঘন্টাখানেক পর নিখোঁজ বিমান ও এর আরোহীদের সন্ধানে নৌ বাহিনীর একটি উদ্ধারকারী বিমান রওয়ানা দিলে কিছুক্ষণ বাদে সেটিও পাইলটসহ উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনার পর নিখোঁজ বিমান ও আরোহীদের সন্ধানে আটলান্টিকের ঐ অঞ্চল চষে ফেলে শত শত জাহাজ ও বিমান। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া বিমান বা ক্রুদের কোন চিহ্নই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। চির রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গালের রহস্য ভেদ করাও সম্ভব হলো না।
বিমানে পৃথিবীকে চক্কর দেয়া হলো না তার
আকাশযাত্রার ক্ষেত্রে একজন পথিকৃত ও লেখিকা এমিলি ইয়ারহার্টের অন্তর্ধানের ঘটনা একসময় সারাবিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। আকাশপথে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়া প্রথম নারী পাইলট এমিলির উচ্চাশা ছিল আরও অনেক বেশি। বিমানে করে পুরো পৃথিবীটা চক্কর দিতে চেয়েছিলেন এই দু:সাহসী নারী। লক্ষ্য পূরণে ১৯৩৭ সালের ২ জুন কো-পাইলট ফ্রেড নূনানকে সাথে করে লকহেড ইলেকট্রা বিমান নিয়ে আকাশে উড়ালও দিয়েছিলেন এমিলি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝামাঝিতে হাওল্যান্ড দ্বীপের কাছাকাছি বিমানসহ উধাও হয়ে যান এমিলি ও নূনান। মার্কিন নৌ বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি এমিলির স্বামী জর্জ পুতনামও তন্ন তন্ন করে খোঁজেন। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হলো। বিমান বা তার দুই চালকের কোন চিহ্নই খুঁজে পাওয়া গেল না।
১০ লাখ ডলারের চিত্রকর্মসহ বিমান উধাও
১৯৭৯ সালে টোকিও নারিতা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের ঘন্টা দেড়েক পর উধাও হয়ে যায় ব্রাজিলের একটি কার্গো বিমান। ৬ জন ক্রু ছাড়াও বিমানটিতে ছিল প্রখ্যাত শিল্পী মানুবু মাবে’র আঁকা ১৫৩টি চিত্রকর্ম। ছবিগুলোর তখনকার বাজারমূল্য ছিল ১০ লাখ ডলারের মতো। ছবিগুলো বা বিমানের ক্রুদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল তা আজো রহস্যই থেকে গেছে।
মার্কিন সামরিক কমকর্তাসহ ডিসি-৪ বিমান গায়েব
১৯৫১ সালের ২১ জুলাই কানাডিয়ান প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের একটি ডিসি-৪ জেট বিমান টোকিও’র উদ্দেশ্যে ভ্যাঙ্কুভার ছেড়ে যায়। আলাস্কার মাঝামাঝি আসতেই বিমানটি খারাপ আবহাওয়ার কবলে পড়ে। বিমান থেকে পাঠানো মেসেজে পাইলটরা বলছিলেন- ৫শ ফুট দূরের জিনিসও তারা দেখতে পারছে না। হঠাত্ তথ্য পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। ৩১ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রুসহ নিখোঁজ হয়ে যায় ডিসি-৪ বিমানটি। যাত্রীদের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও ছিলেন।
