ঝিনাইদহে হেরিটেজ ভবনগুলো যত্নের অভাবে ধ্বংস হচ্ছে

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৪, ২০:৫০
ঝিনাইদহ জেলায় হেরিটেজ ভবনগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ ব্রিটিশ হেরিটেজ নীল কুঠি ধ্বংস হয়ে গেছে। হাতেগোনা কয়েকটি ব্রিটিশ হেরিটেজ টিকে আছে। তাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ভবনের আকর্ষণ আছে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবার সিরাজুদৌল্লার পতনের পর ব্রিটিশরা এদেশের ক্ষমতায় বসে। দলে দলে সাহেব ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় এদেশে আসতে থাকে। নীল চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় সাহেবগণ চাষে নেমে পড়ে। শুরু হয় চাষিদের উপর চরম অত্যাচার- নির্য়াতন। যশোর, নদীয়া (বর্তমানে ভারত) ও রাজশাহী জেলায় নীল কুঠি গড়ে তোলে তারা। নীলকর সাহেবদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে চাষিরা বিদ্রোহ শুরু করে। নীল কুঠি আক্রমণ করে পুড়িয়ে দিতে থাকে। কৃত্রিম নীলের আবিষ্কার হলে ব্যবসায় ভাটা পড়ে। সাহেবগণ এদেশিয় জমিদারদের কাছে কুঠি বিক্রি করে বা ফেলে রেখে চলে যায়। ঝিনাইদহ জেলাতে অন্তত ১০টি নীল কুঠি ছিল। খালিশপুর নীলকুঠি বাদে সবগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। কয়েক একর জমির উপর নির্মিত এ নীল কুঠিটি টিকে আছে। তবে ধ্বংসের পথে। কুঠি ও সংলগ্ন জমির মালিক এখন সরকার। কপোতাক্ষ পাড়ের এ কুঠিটি সংস্কার করে সুন্দর একটি পিকনিক কর্নার বা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা যায়। কুঠির জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। কোটচাঁদপুরে আছে ম্যাকলিউড সাহেবদের বাড়ি। যা সাহেব বাড়ি নামে পরিচিত। বর্তমানে বাড়িটি কোটচাঁদপুর হাই স্কুলের দখলে। বর্তমানে বাড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছে। এ ভবনটি সংস্কার করার মত অর্থ স্কুলের নেই। এটিও হেরিটেজ ভবন ঘোষণার দাবি স্থানীয়দের। ঝিনাইদহ শহরের ব্রিটিশদের চিহ্নগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। মহকুমা স্থাপনের পর নবগঙ্গা নদী তীরে ফৌজদারি ও দেওয়ানী আদালত ভবন নির্মাণ করা হয়। ফৌজদারি আদালত ভবন ও ট্রেজারি ধ্বংস হয়ে গেছে। একমাত্র দেওয়ানী আদালত ভবনটি টিকে আছে। জেলা গঠনের পর এ ভবনে জেলা জজ আদালতের কাজ চলত। তারপর সাব-রেজিস্টার অফিস স্থাপন করার পর এটি নষ্ট হতে শুরু করে। বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে। তত্কালীন মহকুমা প্রশাসকদের কেউ সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নদীর পাশ ঘেঁষে দু’সারি দেবদারু গাছ লাগিয়েছিলেন। গাছগুলোর মধ্যে বেশ কিছু নষ্ট হয়ে গেলেও এখনও অনেকগুলো টিকে আছে। দেখতে বেশ সুন্দর লাগে।