অবিলম্বে আরেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এখন দ্রুত নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন জরুরি বলে মত দিয়েছেন দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক। তাদের মতে, বর্তমান ইসির মেরুদণ্ডহীনতা, অক্ষমতা ও পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত। আর সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বদলে বিএনপি ক্ষমতায় আসুক, এটাও কাম্য নয়। জনগণ চায় সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, সত্ ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার। এজন্য ইসি পুনর্গঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কারও প্রয়োজন। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন তছনছ: সুষ্ঠু নির্বাচনে বিকল্প ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।
সভায় বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্দীন মালিক বলেন, বড় দুটি দলই দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ। এই দুটি দলের শেষ হয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর একটি দল স্বৈরাচার হয়ে উঠেছে, আরেকটি দলের প্রধান লক্ষ্যই যেন-শুধু তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসানো। এবারের উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও রাজনৈতিক দলগুলো এতে অংশ নিয়েছিল। সবাই সদর্পে বেআইনি কাজ করেছে। ড. শাহ্দীন আরও বলেন, এখন যে সংসদ নির্বাচন হয়, এটা আসলে নির্বাচন নয়। এ যেন পাঁচ বছর পর ইজারা নেয়া। ইজারা নেয়ার এই প্রতিযোগিতা থেকে বাঁচতে হলে আনুপাতিক হারে আসন বণ্টনের নির্বাচন পদ্ধতিতে যেতে হবে।
লেখক, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, রাজনীতি এখন যে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে তা আমাদের অনেকদিনের পাপের ফসল। দীর্ঘ ২১ বছর পর তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসলো, তারাই বললো এটা অগণতান্ত্রিক। এটা তো অসততা। তার মতে, রাষ্ট্র যদি সুস্থ থাকে এবং প্রশাসন সত্ ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে যে কোনো ব্যবস্থায়ই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তিনি বলেন, শুধু বড় দলগুলোকে দোষারোপ করলে হবে না, এখন ছোট দলগুলোকেও ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা ক্ষমতা চাই না, গণতন্ত্র চাই। এজন্য প্রয়োজনে জেলে যেতেও রাজি আছি।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন অর্পিত দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করলে সরকারের প্রভাবও কাজে আসে না। বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন এর প্রমাণ। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমেদ বলেন, গণতন্ত্র এখনও অধরা।
আলোচনার সঞ্চালক, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এখন একটা কথা বলা হচ্ছে- ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আইনগত বৈধ, তবে নৈতিকভাবে অবৈধ। নৈতিকভাবে অবৈধ জিনিস আবার বৈধ হয় কীভাবে!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমেনা মোহসীন বলেন, পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, সমাজকে ভালোবেসে কিছু করতে গেলেও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ করা হয়। কোনটি আইনি বৈধ, কোনটি সামাজিক বৈধ-সেই বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। বেলা’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার আছে, সংসদও আছে। তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে- সেখানে আমার কোনো প্রতিনিধি নেই।
