আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারিভাবে দিবসটি গুরুত্ব সহকারে পালন করা হবে। এদিকে, দিবসটি সামনে রেখে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেছেন, এখনো দেশের চিকিত্সা শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও যুগোপযোগী হয়নি। অনেক সরকারি মেডিক্যাল কলেজে নেই বিভিন্ন বিষয়ের প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক। বেসরকারি মেডিক্যালগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা মানহীন। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা দরিদ্র রোগীদের চিকিত্সা বলয়ে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়ার জন্য হেলথ ইন্স্যুরেন্স চালুর উপর জোর দেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রখ্যাত নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, বাণিজ্যিক লোভে নয়, প্রকৃত চিকিত্সক তৈরি করার মনোবৃত্তি নিয়েই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। এমন সব বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ অনুমোদন দেয়া হয়েছে যা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামোতেই পড়ে না। মনে রাখতে হবে, রোগীকে সুস্থ করার জন্য ডাক্তার তৈরি করতে হবে। মানুষ মারার জন্য ডাক্তার তৈরি হয় না। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর বেশিরভাগের অবকাঠামোতে অবস্থা দুর্বল। সেখানে শিক্ষকদের সঙ্কট বলে শেষ করা যাবে না।
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, এ দিবসে আসলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনেক কিছু করার শ্লোগান শুনি। মনে হয় এর আগে তাদের করার কিছু ছিল না। এটা নতুন নয়। বিগত সরকারের আমল থেকেই শুনে আসছি, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে শ্লোগানের বাণী।
বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসন স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষার সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর মানোন্নয়নে পদক্ষেপ নিবে বলে যে আশার বাণী শোনাচ্ছে তার বাস্তবায়ন দেখতে চান বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা।
চিকিত্সকরা জানান, কৃষকদের জন্য ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সরকারি উদ্যোগ দেশব্যাপী প্রশংসিত। গ্রামে গ্রামে সরকারের কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। প্রাথমিক চিকিত্সা সেবার জন্য গ্রাম অঞ্চলের নারী-পুরুষদের ১০ টাকার বিনিময়ে হেলথ ইন্স্যুরেন্স করার সুযোগ দেয়া হলে সরকারের স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি আর্থিক যোগানের একটি বড় উত্স হবে। এক্ষেত্রে দরিদ্র রোগীদের চিকিত্সা সেবার অর্থ নিয়েও সরকারকে ভাবতে হবে না এমন মন্তব্যও করেছেন শীর্ষ স্থানীয় বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। স্বাস্থ্য বীমা সারা বিশ্বেই রয়েছে।
রাজধানীর ৭টি সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন গ্রাম অঞ্চল থেকে আগত রোগীদের চাপ মাত্রাতিরিক্ত বাড়ছে। জনবল ও চিকিত্সা সামগ্রীর সঙ্কট অব্যাহত থাকায় এ চাপ নিয়ে কি বেসামাল পরিস্থিতির মাধ্যমে ডাক্তার নার্সরা চিকিত্সা সেবা দিচ্ছেন তা স্বচক্ষে কর্মকর্তাদের দেখা উচিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (মেডিক্যাল এডুকেশন) অধ্যাপক ডা. এম এ হান্নান বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। এবারের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে প্রতিপাদ্য বিষয় “মশা-মাছি দূরে রাখি, রোগ বালাই মুক্ত থাকি”।
