তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে ঘরেই ভালো আয় করছেন তরুণরা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৩
প্রযুক্তি এখন তারুণদের হাতের মুঠোয়। তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন সংক্ষিপ্ত কোর্স সম্পন্ন করে বাড়তি আয় করছেন এদেশের হাজার হাজার তরুণ। যারা কারো কাছে চাকরির জন্য দ্বারস্থ হচ্ছেন না। নিজেই নিজের কাজ করছেন। আবার যারা তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করছেন, তারাতো আরো ভালো আছেন। প্রায় পৌনে চার কোটি শিক্ষিত বেকারের এই দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। তাই বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই আর চাকরির পেছনে ছুটছেন না। স্নাতক পাস করে চাকরি চেয়ে না পেয়ে শেষে কম্পিউটার সংক্রান্ত কয়েকটি কোর্স করেই এখন অনেকেই আয় করছেন। এমনি একজন মেহেদী হাসান। বললেন, চাকরি না পেয়ে গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে প্রথমে সংক্ষিপ্ত কোর্স করি। পরে এই লাইনে আগ্রহ বাড়ে এবং কাজ করতে গিয়ে আজ ভালই আছি। ঘরে বসেই আয় করি। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তি সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। বাংলাদেশে বসেই বিদেশের কাজ সম্পন্ন করছেন এদেশের তরুণরা। যাবতীয় সাইট ডিজাইন থেকে শুরু করে বিদেশি সংবাদপত্রের কাজ করেও বাংলাদেশের তরুণরা অভ্যস্ত। গ্রীন রোডের সাফিউল কাজ করতেন নিজের বাসায়। পরিচিতি বাড়ার পর এখন বাসার নিচে একটি ছোট্ট রুম নিয়ে অফিস সাজিয়েছেন। কাজ করেন নিজের ইচ্ছামত। বললেন, চাকরি করলে কতইবা পেতাম। এখন একটা ওয়েব ডিজাইন করে দিলেও অনেক টাকা পাই। যদিও গ্রাহকভেদে এটি তারতম্য হয়ে থাকে। প্রযুক্তির ছোঁয়া এখন ঘরে বাইরে-সবখানেই। হাতের মোবাইল ফোনটিও পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিংবা কোন যন্ত্রাংশ ভেঙে গেছে। এগুলো ঠিক করার কারিগরও এখন ঢাকায় প্রচুর। বিভিন্ন মার্কেটের বাইরে রাস্তার ধারেও মোবাইল সারানোর কারিগররা বসে থাকেন। এদের অনেকেরই সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়ে কোন পড়াশোনা নেই। হাতেকলমে শিখেই এরা স্বউদ্যোগে কাজ করছেন। আজিমপুরের মোর্শেদ মোবাইল ঠিক করেন। বললেন, মোবাইলের কাজ খুব কঠিন কিছু নয়। কখনো খুলে পরিষ্কার করে দিলেও মোবাইল ভালভাবে চলবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডিসপ্লে নষ্ট হয়ে যায়। কোন পার্টস নষ্ট হলে সেটি লাগিয়ে দেয়া যায়। ব্যাটারি ডাউন হয়ে যায়। কিংবা কেউ কভার লাগাতে আসে। ধুলাবালি থেকে দূরে রাখতে এখন অধিকাংশ ব্যবহারকারীই এখন মোবাইলে কভার লাগিয়ে নেন। গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসে এদের মতই হাজারো যুবক খেটে খাচ্ছেন। আয়-রোজগার দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। যাদের নিয়ে নীতি-নির্ধারকদের ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন পড়ে না। নিজের চাকরি নিজে করার এই আনন্দে তারাও দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তবে তাদের এই অবদানের কথা খুব কম লোকের চিন্তায় আসে।