শ্রীলঙ্কার বিশ্বজয়

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৪
কাঁধে কাঁধ রেখে হাতে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিলেন সবাই। শুধু একটা শটের অপেক্ষা। থিসারা পেরেরা বলটা তুলে মারলেন, অমনি বাধভাঙা উল্লাসে মাঠে ছুটে এলেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা। এদিকে সাঙ্গাকারা, ওদিকে জয়াবর্ধনে ভেঙে পড়লেন এক অসীম পাওয়ার উল্লাসে। বেশী সময় পেলেন না উল্লাস করার। সতীর্থরা দুই কিংবদন্তীকে কাঁধে নিয়ে এবার শুরু করলেন মাঠ প্রদক্ষিণ করা। হ্যা। অবশেষে; অবশেষে জয়াবর্ধনে-সাঙ্গাকারার মতো দুই কিংবদন্তী পাঁচ পাঁচবারের চেষ্টায় একটি বিশ্বকাপ ট্রফি স্পর্শ করলেন এসে জীবনের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। অবশেষে একটা ট্রফি নিয়েই বিদায় নিলেন দুই কিংবদন্তী। টানা ট্রফি জয়টাকে অভ্যেসে পরিণত করে ফেলা ভারতকে গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি ফাইনালে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারালো শ্রীলঙ্কা। সেই সঙ্গে ১৯৯৬ সালের লাহোর ফিরে এলো যেন গতকাল মিরপুরে। ভেতরে অনেকে চেষ্টা করেছেন, অনেকে কাছে গেছেন। কিন্তু অর্জুনা রানাতুঙ্গার পর আরেকটি বিশ্বকাপ স্পর্শ করলেন একেবারেই আলোয় না থাকা ‘অধিনায়ক’ লাসিথ মালিঙ্গা। ১৩১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা খুব ভালো হয়নি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৪১ রান তুলতে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল তারা। মাত্র ৫ রান করে কুশল পেরেরা ও ১৮ রান করে দিলশান ফিরে যান। এরপর উইকেটে জুটি করেন সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে। ক্রিকেট রোমান্টিকরা তখন উত্তেজনায় কাঁপছেন—বিদায়ী ম্যাচে অবশেষে বারবার হাতছাড়া হওয়া ট্রফিটাকে এই দুই কিংবদন্তীই কী এনে দিয়ে যাবেন? এই অসামান্য ব্যাপারটা বাস্তবায়িত হল না ২৪ বলে ২৪ রান করে জয়াবর্ধনে আউট হয়ে যাওয়ায়। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে এমনিতে খুব ভালো করতে না পারা সাঙ্গাকারা যেন এদিন নিজের ব্যাটে দুই বন্ধুর হয়ে লড়বেন বলে ঠিক করেছিলেন। ফলে ভেতরে থিরিমান্নেকে হারানোর পরও সাঙ্গাকারা নিশ্চুপ হননি। ৩৫ বলে ৫২ রানের এক ইনিংস খেলে দলকে একটা ট্রফি অন্তত জিতিয়ে তবেই মাঠ ছেড়েছেন। এর আগে অসাধারণ বোলিং করে শ্রীলঙ্কান পেসাররা প্রথম ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে ভারতের বিখ্যাত টপ অর্ডারকে বেধে রাখলেন ১ উইকেটে মাত্র ৩১ রানে; ওভারপ্রতি রান ৫.১৬ করে! আবার শেষ ৪ ওভারে আরও করুণ অবস্থা বানিয়ে দিলেন কুলাসেকেরা ও মালিঙ্গা নিজে। যুবরাজ সিংয়ের দৃষ্টিকটু ব্যাটিং আর লঙ্কান দুই পেসারের নিয়ন্ত্রিত বোলিং মিলিয়ে ভারত শেষ ৪ ওভারে ২ উইকেট খুইয়ে মাত্র ১৯টি রান তুলতে পারলো! আর এর মাঝে ভারতীয় ইনিংসের সবটুকুই ওই ‘বিরাট-গল্প’! গতকাল আরও একটি ফিফটি করে ইনিংসে শেষ বলে আউট হওয়ার আগে নামের পাশে যোগ করে গেলেন ৫৮ বলে ৭৭ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস। ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস খেলে কোহলি আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন, কেন তাকে ভারতের নতুন প্রজন্মের কান্ডারি বলা হচ্ছে। এই দুরন্ত ইনিংস খেলার ভেতর দিয়ে আগে থেকেই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে থাকা বিরাট কোহলি এই টূর্নামেন্টে নিজেকে নিয়ে গেলেন স্পর্শের বাইরে। ৬টি ম্যাচ খেলেছেন; তাতে ১০৬.৩৩ গড়ে ৩১৯ রানের অবিশ্বাস্য সংগ্রহ; এর মধ্যে ৪টিই ফিফটি এবং ৩ বার ছিলেন অপরাজিত। দলকে ম্যাচ জেতানোর পথে ৩৬*, ৫৭* ও ৭২* রান করেছেন তিন ম্যাচে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যেই ম্যাচটাতে আউট হয়ে গিয়েছিলেন সেটাতেও করেছিলেন ৫৪ রান। এই বিরাট কোহলি ছাড়া ভারতের ইনিংসে বলার মতো যে কিছু নেই, সে কৃতিত্ব অবশ্যই লঙ্কান পেসারদের। মাঝে স্পিনারদের হাত থেকে একটু লাগামছাড়া হলেও ম্যাচ ধরে রেখেছেন তারা।