কংগ্রেস না বিজেপি? মোদী নাকি রাহুল? এই এক জোড়া প্রশ্ন গত কয়েক মাস ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে ভারতের শতকোটি মানুষের মনে। কেবল ভারত নয়, এই উপমহাদেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিরাট অংশও উত্তরগুলো জানার অপেক্ষায়। সবার মনে প্রশ্ন, কোন দল বা জোটের হাতে যাবে ভারতের ক্ষমতা। ১২১ কোটি মানুষের দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসবেন কে।
প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আজ সোমবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে লোকসভা নির্বাচন। বিভিন্ন কারণে এবারের লোকসভা আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। কারণ এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে গেছে সাম্প্রদায়িকতায় অভিযুক্ত দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর চরম দুঃস্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী কিংবা দলের সহ সভাপতি রাহুল গান্ধীর শত জারিজুরি জনমত কাছে টানতে কাজে এসেছে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ, সবগুলো জরিপেই দেখা গেছে বিজেপি জোটের জয়জয়কার। আর করুণ অবস্থা কংগ্রেসের।
আজ শুরু হয়ে নয় ধাপে নির্বাচন চলবে ১২ মে পর্যন্ত। ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা ১৬ মে। আজ ভোটগ্রহণ হবে আসাম ও ত্রিপুরার ছয়টি আসনে। এই আসনগুলো হচ্ছে তেজপুর, কালিবর, জোড়হাট, দিব্রুগড়, লাখিমপুর ও ত্রিপুরা (পশ্চিম)। এসব আসনে নির্বাচনী প্রচারণা দুদিন আগেই বন্ধ করা হয়। আজকের নির্বাচনের ৫১ প্রার্থীর মধ্যে আলোচিত হচ্ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রানি নারাহ, পবন সিং ঘটোয়ার, সাবেক মন্ত্রী এবং বিধায়ক কৃষ্ণ হান্দিক, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এর পুত্র গৌরব প্রমুখ। কংগ্রেসের দু’জন বিদ্রোহী প্রার্থীও আলোচনায় আছেন।
এটা ভারতের ১৬তম সাধারণ নির্বাচন। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩ আসনের এ নির্বাচন শেষে ১৬ মে সব প্রশ্নে উত্তর মিলে যাবে। লোকসভার পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা ও সিকিম রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনেও ভোটগ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চাকে (ইউপিএ) হারিয়ে প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) জয়লাভের সম্ভাবনা প্রবল। তবে নির্বাচনের ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলো বেশ প্রভাব বিস্তার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৮১ কোটি ৪৫ লাখ। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় নয় লাখ ৩০ হাজার। ভোটাররা ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোট দেবেন। ২০০৪ সালে দেশটিতে প্রথমবারের মতো এ যন্ত্রের সাহায্যে ভোটগ্রহণ করা হয়। এবারই প্রথম সারাদেশে নয় দফায় ভোট হচ্ছে। আজকের মতো সাধারণ নির্বাচনে একদিনে মাত্র ছয়টি লোকসভা নির্বাচনী আসনে ভোটগ্রহণ আগে কখনো হয়নি।
এবার ভোট বয়কটের ডাক দেয়নি কোনও জঙ্গি সংগঠন। কিন্তু সোমবার উলফার প্রতিষ্ঠা দিবস হওয়ায় কোনোরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে ভোট গ্রহণ কেন্দ্রগুলোকে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোতায়েন রয়েছে ২৪০ কোম্পানি আসাম পুলিশও।
আজকের আসনগুলোতে মূলত লড়াই হবে সিপিআইএম ও কংগ্রেসের মধ্যে। যদিও লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে বিজেপিও। কিন্তু বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা এসব আসনে কম। কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ত্রিপুরা প্রগতিশীল গ্রামীণ কংগ্রেস গঠন করেছেন সুবল ভৌমিক। প্রথমে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের ঘোষণা করেও পরে তা ভেস্তে যায়। ফলে এককভাবেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ত্রিপুরা প্রগতিশীল গ্রামীণ কংগ্রেস। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই রাজ্য পুলিশ ছাড়াও মোতায়েন থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। সবচেয়ে বেশি আসনে (১২২) ভোটগ্রহণ হবে ১৭ এপ্রিল। নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাটে নির্বাচন হবে ৩০ এপ্রিল।
