গল্প নয় সত্যি

অভ্যাস যায় না...

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩১
কথায় বলে ‘অভ্যাস যায় না ধুলে আর স্বভাব যায় না মলে’। এক কথায় এর সরলার্থ হলো অনেক কিছু পাল্টানো গেলেও মানুষের অভ্যাস বা স্বভাব কিন্তু চট করে পাল্টে দেওয়া যায় না। যেমনটি যায়নি আজকের এই সংবাদের কেন্দ্রীয় চরিত্র ও চেক রিপাবলিকের অধিবাসী ভ্লাদিমির প্রোকোপের। প্রতারক এই ব্যক্তি জেল থেকে পালানোর পর নিজের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে দেশটির কৃষি বিষয়ক জাদুঘরে চাকরি জুটিয়ে নিলেও পরে সেখান থেকেও অর্থ আত্মসাত্ করে পালিয়েছেন। আর এতে জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে এখন পড়তে হয়েছে দশ মিলিয়ন চেক ক্রাউন বা প্রায় তিন কোটি নব্বই লক্ষ টাকার ক্ষতির মুখে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, অর্থ আত্মসাতের অপর এক অভিযোগে দশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ভ্লাদিমির গেল বছরের জুন মাসে জেল থেকে পালিয়ে যান। প্রাগের একটি চার্চের বৈদেশিক সহায়তা গ্রহণ সংক্রান্ত বিভাগের দায়িত্ব পালনের সময় প্রায় দশ মিলিয়ন চেক ক্রাউন হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তার ওই সাজা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সাজা চলাকালীন সময়ে জেল পালাতে সক্ষম হলেও নিজেকে একটুও শোধরানোর প্রয়োজন মনে করেননি ভ্লাদিমির। বরং একইভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একজন অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ দাবি করে জাদুঘরের প্রধান অর্থ বিষয়ক কর্মকর্তার চাকরি নেন তিনি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই জাদুঘরটিতে দিব্যি অফিসও করে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে গেল বৃহস্পতিবার পুলিশ তার সন্ধান জানার পর পুনরায় তাকে ধরতে জাদুঘরে হানা দিলেও এবারও জাদুঘরের প্রদর্শনী কক্ষগুলোর মধ্য দিয়ে ফায়ার এক্সিট হয়ে পালাতে সক্ষম হন ভ্লাদিমির। পরে তার বাসা থেকে বেশ কয়েকটি প্লাস্টিক ব্যাগে খোয়া যাওয়া অর্থের অধিকাংশই ফেরত পাওয়া যায়। এদিকে এ ধরনের একজন ফেরারী আসামীকে কী করে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হলো সেই সমালোচনার জবাবে জাদুঘর কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র লুবোমির মারসিক জানান, ‘তিনি (ভ্লাদিমির) এতটাই সাদাসিধে আর বিনয়ী ছিলেন যে তাকে এত বড় মাপের ধোঁকাবাজ ভাবার কোনো কারণই ছিল না।’