কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদী বেষ্টিত কয়রা উপজেলা। উপজেলার ১১৮ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ওপর অবস্থিত ২০টি পানি নিষ্কাশনের স্লুইজ গেট। এর মধ্যে ৭টি স্লুইস গেট সম্পূর্ণ অকেজো এবং ৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। একটানা কয়েকদিন বর্ষা হলেই এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এই এলাকার অধিকাংশ পরিবার কৃষি ও মত্স্য চাষের ওপর নির্ভরশীল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পাউবোর ১৩-১৪/২ পোল্ডারে অবস্থিত ১৬টি স্লুুইস গেটের মধ্যে কাশিয়াবাদ ফরেষ্ট ষ্টেশন সংলগ্ন স্লুইস গেট, নয়ানি গেট, ৫নং কয়রা গেট ও কাঠমারচর স্লুইস গেট এবং ১৪/১ পোল্ডারের পদ্মপুকুর গেট, বিনাপানি গেট ও আংটিহারা স্লুইস গেটগুলো সম্পূর্ণ অকেজো রয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে এ সকল স্লুইস গেট পুনঃ নির্মাণের কোন সম্ভাবনা নেই। বিধায় এ সকল এলাকা অতি বর্ষণে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। উপজেলার ২০টি পানি নিষ্কাশন স্লুইস গেটের মধ্যে ৭টি গেট নষ্ট থাকায় মত্স্য চাষসহ কৃষি ফসল উত্পাদনে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আইলার পর গত ২০১১ সালে জানুয়ারি মাসে গুরুত্বপূর্ণ পাউবোর বাঁধগুলো মেরামত হলেও এখনও পর্যন্ত কয়রাবাসী পুরোপুরি ফসল উত্পাদনে স্বপ্ন দেখতে পারেনি। গত আমন মৌসুমে কিছুসংখ্যক কৃষক আমন চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে। সেই আশায় আগামী আমন মৌসুমে এলাকার শত ভাগ কৃষক আমন চাষে অতি উত্সাহী। কিন্তু স্লুুইস গেট্ ও পাউবোর বেড়িবাঁধের নাজুক অবস্থার কথা ভেবে কৃষকরা হতাশা প্রকাশ করছেন।
