রক্ষণ-আক্রমণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় মরিনহো

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪৩
স্টোক সিটির বিরুদ্ধে গত শনিবার ৩-০ গোলে জয়ের পরও হোসে মরিনহো বলছেন, চেলসির প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের কোন সম্ভাবনাই দেখছেন না তিনি। মরিনহোর লিগ শিরোপার আক্ষেপ ঘোচাতে পারে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। আর সেটা করতে হলে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর বিরুদ্ধে আজ নিজেদের মাঠে শেষ আটের দ্বিতীয় লেগে জমাট রক্ষণের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেছেন এই পর্তুগীজ। ডিফেন্ডারদের ভুলে প্রথম লেগে ৩-১ গোলের হারায় ম্যাচে পিছিয়ে থেকেই শুরু করতে হচ্ছে চেলসিকে। মরিনহোর কপালে চিন্তার ভাজ বাড়িয়েছে মূল স্ট্রাইকার স্যামুয়েল ইতোর চোট। ক্যামেরুনিয়ান এই স্ট্রাইকার আজ মাঠে নামতে পারছেন কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি গতকাল পর্যন্তও। মোহাম্মদ সালাহ, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড ও উইলিয়ানের গোলে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে স্টোক সিটিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয়ার পর মরিনহো বলেন, ‘প্যারিসের (সেন্ট জার্মেই) বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ একটি গোল আমরা হজম করতে পারি। তবে নিজেদের পোস্ট আগলে রাখতে পারলে সবচেয়ে ভালো। যদি বিষয়টি এরকম রাখা যায় তাহলেই কেবল আমাদের সুযোগ আছে। কারণ, এক গোল হজম করলেও আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠিন এক লড়াই উপহার দিতে পারবো। কিন্তু তারা যদি দুই গোল করে ফেলে তাহলে আমাদের পাঁচটি গোল করতে হবে। যেটা প্রায় অসম্ভব। সুতরাং, প্যারিসের বিরুদ্ধে রক্ষণ কাজটা ঠিকভাবে করার কোন বিকল্প নেই। ’ রক্ষণভাগ নিয়ে মরিনহোর এই বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণটা অনুমান করাও মোটেই কঠিন নয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও জ্যাভিয়ের পাস্তোরের শেষ মুহূর্তের গোলে আরেকটি গোল হজম করতে হয় চেলসিকে। আর এই গোলের পেছনে পাস্তোরের অবদানের চেয়ে চেলসির রক্ষণ ভুলটাই চোখে পড়েছিল বেশি। ম্যাচ শেষে ডিফেন্ডারদের সম্পর্কে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মরিনহো। এদিকে, ডিফেন্ডারদের ভুলে ভরা ঐ ম্যাচেও আশ্চর্য ব্যতিক্রম ছিলেন অধিনায়ক জন টেরি। দীর্ঘদিন ধরে চেলসির রক্ষণভাগ সামলানো অভিজ্ঞ টেরির চেলসির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে এই মৌসুম শেষেই। অভিজ্ঞ এই রক্ষণ সেনানীকে দলে রাখতে মরিয়া মরিনহো স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন টেরির প্রতি তার দুর্বলতার কথা। দুটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতা এই কোচ বলেন, ‘আমি শুধু বলতে পারি যে, চেলসি কোচ চাচ্ছেন সে থেকে যাক। তবে চুক্তিটা হচ্ছে তার এবং ক্লাবের মধ্যে। আমি কখনোই এই বিষয়ে নাক গলাই না। তারাই আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধান খুঁজে বের করতে পারবেন। ক্লাব জানে আমি চাই সে থাকুক। ক্লাবও তাকে রাখতে চায়। টেরিও চাইছে চেলসির হয়ে খেলে যেতে। সবদিক বিবেচনা করে ধারণা করা যেতে পারে সে থাকছে।’ মরিনহোর সমস্যা শেষ হচ্ছে না এখানেই। দেমবা বার ফর্মহীনতা আর ইতোর চোট রক্ষণের পাশাপাশি মরিনহোকে ভাবাচ্ছে আক্রমণভাগ নিয়েও। প্রথম লেগে আন্দ্রে স্কুরেলকে ‘ফলস নাইন’ পজিশনে খেলিয়ে কোন ফল না পাওয়া চেলসি কোচ আজ আস্থা রাখতে পারেন ফার্নান্দো তোরেসের উপর। মাঠে খারাপ সময় যাচ্ছে এই স্প্যানিয়ার্ডেরও। লিভারপুল থেকে নিজেদের ট্রান্সফার রেকর্ড ভেঙ্গে দলে ভেড়ানোর পর ব্লুজ সমর্থকদের আস্থার মোটেই প্রতিদান দিতে পারেননি তোরেস। তাই, ইতোর জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছেন মরিনহো। গত রোববার রাতে তিনি বলেন, ‘ইতো কি খেলবে? দেখা যাক, সোমবারের (গতকাল) অনুশীলনে সে যোগ দিতে পারে কিনা। তাকে হয়তো খেলানো যেতে পারে। কিন্তু একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে ঝুঁকি নেয়ার আগে আপনাকে বুঝতে হবে সে ঝুঁকি নেয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পেরেছে কিনা। যদি আমার মনে হয়, মাত্র দশ মিনিট পরই তাকে তুলে নিতে হবে, সেক্ষেত্রে ঐ ঝুঁকিটা আমি নেবো না। কিন্তু, অবস্থা যদি এর চেয়ে একটু ভাল হয় তাহলে হয়তো সে থাকছে।’