দেশ বিদেশের লাখো লাখো পুণ্যার্থীর সমাগমে গতকাল মুখর হয়ে উঠেছিলো নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও সোনারগাঁ উপজেলার মাঝে অবস্থিত লাঙ্গলবন্দ তীর্থক্ষেত্র। ‘হে ব্রক্ষ্মপুত্র হে লৌহিত্য’ আমার পাপ হরণ কর এই পবিত্র মন্ত্র উচ্চারণ করে পাপমোচনের আশায় ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করছেন তীর্থযাত্রীরা। এ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন নেয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর তীর্থক্ষেত্র প্রাঙ্গণে বসেছে সাত দিনব্যাপী লোকজ মেলা।
একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা অষ্টমী স্নান উত্সব পালনের খবর দিয়েছেন। শুক্লা তীথি অনুযায়ী রবিবার রাত ১টা ৫৪ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে লগ্ন শুরু হয়ে সোমবার দুপুর ৩টা ৪৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড পর্যন্ত ছিল এ স্নানের সময়কাল। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, আজ সকাল ৭টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত অমৃত যোগ ছিলো। তাই এই সময়টাতেই পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো
সেখানকার ১৪টি স্নানঘাট ও মন্দিরে। গত শনিবার থেকেই পুণ্যার্থীদের আগমন শুরু হয়।
দেবতা পরশুরাম হিমালয়ের মানস সরোবরে স্নান করে পাপমুক্ত হন। এরপর তিনি লাঙ্গল চষে মানস সরোবরকে নামিয়ে আনেন সমভূমিতে। যেখানে এসে তিনি বিশ্রাম নিয়েছিলেন সে জায়গাটির নাম লাঙ্গলবন্দ। এ কারণে লাঙ্গলবন্দ তীর্থ ক্ষেত্রে অষ্টমী তিথিতে পাপমোচনের আশায় স্নান উত্সবে মেতে উঠেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
মুন্সীগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ), বেলাব (নরসিংদী), শিবালয় (মানিগঞ্জ), কুমিল্লা, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল), মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা), কেশবপুর (যশোর) থেকে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা এই উত্সব পালনের খবর দিয়েছেন।
বরিশাল অফিস জানায়, হিন্দু পুণ্যার্থীরা গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিমানবন্দর থানার ঐতিহ্যবাহী মাধবপাশা দুর্গা সাগর দীঘিতে স্নান উত্সবে অংশ নেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে পুণ্যার্থীরা পাপ মোচনের আকাঙ্ক্ষায় সমবেত হয়ে এ তীর্থ স্নানে অংশগ্রহণ করেন।
