রাজধানীর রামপুরায় চোরাচালানের স্বর্ণের বার আত্মাসাতের ঘটনায় জড়িত তিন পুলিশসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অবশেষে মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে রামপুরা থানায় ডিবির ইন্সপেক্টর ফজলুল হক বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে দুপুরে মামলার অনুমোদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদক থেকে এ সংক্রান্ত একটি পত্র ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪’ এ সরকারি কর্মচারী হয়ে ঘুষ নেয়া, ঘুষ নিয়ে প্রভাব সৃষ্টি, বেআইনিভাবে নিলাম ডাকা-সংক্রান্ত অপরাধ, কাউকে বাঁচাতে সরকারি কর্মচারীদের আইন ভঙ্গ বা ভুয়া দলিল প্রণয়ন করা, সরকারি কর্মচারীদের বিশ্বাস ভঙ্গ, ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবহেলা, প্রতারণার মাধ্যমে দলিল জাল করা এবং তা ব্যবহারের অপরাধকে দুদকের তফসিল ভুক্ত করা হয়। এ কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির কোনো মামলা দায়ের করার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই তিন পুলিশের অপরাধ দুদকের তফসিল ভুক্ত। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে এতোদিনে মামলা দায়ের করা হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে গত বুধবার মামলা দায়েরের জন্য দুদকের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়। গতকাল দুদক থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরপরই রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। তবে এ মামলার তদন্ত করবে দুদক।
উল্লেখ্য, চোরাই স্বর্ণের ১৬৫টি বার (যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা) আত্মসাতের অভিযোগে গত সোমবার রাতে রামপুরা থানার এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের এক সোর্স ও এক ড্রাইভারকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে আত্মসাত্ হওয়া ১৮ কেজি ওজনের ১৪৯টি বার উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রামপুরা থানার সিভিল টিমের এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল ওয়াহেদুল ও আকাশ চৌধুরী এবং ড্রাইভার সমির কুমার বিশ্বাস ও পুলিশের সোর্স রনি।
