খালেদা জিয়ার এত টাকা গেল কোথায়

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৮
টাকার অভাবে বাড়ির ভাড়া দিতে পারছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া- গতকাল কোনো কোনো সংবাদপত্রে প্রকাশিত এই সংবাদকে সাবেক বিরোধী দলীয় নেতার ‘নতুন নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে দুই মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তারা প্রশ্ন তুলেন, তাহলে খালেদা জিয়ার এত টাকা গেল কোথায়। মতিয়া চৌধুরী বলেন, টাকার অভাবে খালেদা জিয়ার বাড়িভাড়া দিতে না পারা আজকের (গতকাল) টক অব দ্যা টাউন। টাকা না থাকার এই প্রচারণায় মনে হচ্ছে, এটা তার আরেকটি নতুন নাটক। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাকে যেমন ‘দরবেশ’ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, সেই নাটকের মতো এবার খালেদা জিয়াকেও হয়তো ‘সত্’ প্রমাণের জন্যই এই নাটকের অবতারণা। এরপর আবার নতুন কোন নাটক তিনি সামনে নিয়ে আসেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ছেলেদের টিভি চ্যানেল, ড্যান্ডিডায়িং ও কোকো-১সহ অনেকগুলো লঞ্চ এবং অন্তত ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়ার নাকি বাড়ির ভাড়া দেয়ার টাকা নেই। তিনি যখন সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হন, তখন তার দামি আসবাবপত্র, অলঙ্কার ও শাড়ির চিত্র সবাই দেখেছে। তার বাথরুমেও নানা ধরনের বোতল পাওয়া গিয়েছিল। সেসব বোতল-টোতলের জন্যই তার টাকা শেষ কিনা, জানি না। আবার শুনেছি তিনি নাকি এখন যে বাড়িতে থাকেন, সেটির পানি-বিদ্যুতের বিলও দেন না। এই বিল না দেয়ার উদ্দেশে ভাড়ার টাকা না থাকার প্রচারণা কিনা, সেটাও হতে পারে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তার আয়ের উত্স দেখাতে পারেননি। তার আয়করের ফাইল এখনো ক্লিয়ার নয়, আমি দায়িত্ব নিয়েই এটা বলছি। মতিয়া চৌধুরী আরো বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গুলশানে সুন্দরভাবে সাজানো ৬ তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি খালেদা জিয়াকে দেয়া হয়েছিল। তিনি এখনো এর ভাড়া পাচ্ছেন। তিনি একা, তারপরেও নাকি তার সংসার চলে না। আদালতের নির্দেশে তিনি মাসে ব্যাংক থেকে আড়াই লাখ টাকা তুলতে পারেন। এরপরেও তিনি নাকি চলতে পারেন না। গুলশানের ওই বাড়িটি তাকে দেয়া হয়েছিল ছেলেদের লেখাপড়ার জন্য। তার দুই ছেলে কদমআলী ডাক্তারের মতো, যাদের কোনো ডিগ্রি নেই। টাকা নিলেও তারা লেখাপড়া করেনি। ক্যান্টনম্যান্ট বোর্ড যখন খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করেছিল, সেদিনও তিনি অনেক নাটকের অবতারণা করেন। যেই বাড়িতে খালেদা জিয়া একা থাকতেন, সেই জায়গায় ১৫০ জন্য সেনা কর্মকর্তার আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। এর আগে বিষয়টির অবতারণা করে পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় জেলে থাকাবস্থায় খালেদা জিয়া কালো টাকা সাদা করেছিলেন। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এটা করতে পারলেন! জাতির জন্য এটা লজ্জার। তার কাছে কত টাকা ছিল! খালেদা জিয়া এবং তার অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান ও আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদও আয়কর দেননি, যা পরে ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বলা হয়েছিল ভাঙ্গা স্যুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া তিনি কিছুই রেখে যাননি। পরে দেখা গেল কোকো-১, ২, ৩— আরো কতকিছু। তাহলে এই টাকা কোথায় গেল? পূর্তমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৮১ সালের ১২ জুন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাড়িটি দেয়া হয়। যা ১০১ টাকায় রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই বাড়িতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির এমডি ভাড়া থাকেন, তিনি খালেদা জিয়াকে মাসে ৩ লাখ টাকা করে ভাড়া দেন। অগ্রিম হিসেবে খালেদা জিয়া তার কাছ থেকে নিয়েছেন ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০১৫ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ভাড়ার চুক্তি রয়েছে। এছাড়াও খালেদা জিয়ার ৮টি ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে। এতকিছুর পরেও তিনি নাকি টাকার অভাবে বাড়ি ভাড়া দিতে পারছেন না।