মির্জাপুরে পাইপলাইনে গ্যাস চুরির মহোত্সব

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২২
উপজেলায় পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে বাসাবাড়িতে। বৈধ সংযোগে সাড়ে চার হাজার টাকা লাগলেও অবৈধ সংযোগের জন্য গ্রাহক ৯০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা দিচ্ছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ সংযোগ দেয়া হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এদিকে অবৈধ সংযোগের ফলে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের মিল কারখানায় উত্পাদনে বিঘ্ন ঘটছে। গতকাল সোমবার মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ সংযোগ প্রদান। গ্যাস সংকটের কারণে সরকার ২০১০ সালে বাসাবাড়ি, কলকারখানা এবং নতুন সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখে। এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ২০১৩ সালের জুলাই মাসে পুনরায় গ্যাস সংযোগের সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে যারা বৈধভাবে গ্যাসের জন্য আবেদন করেছিলেন তাদের সংযোগ প্রতি সাড়ে চার হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়। এই নির্দেশ জারির পর থেকেই মির্জাপুরে অবৈধভাবে গ্যাস চুরির মহোত্সব শুরু হয়। যারা বৈধভাবে গ্যাসের জন্য আবেদন করেছিলেন তারা আর গ্যাস সংযোগ পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় লেখালেখির পর সরকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেন। এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরই শুরু হয় ফের অবৈধ সংযোগ প্রদান। অবৈধ গ্যাস সংযোগ পেতে অনেকে জমি, গরু-ছাগল বিক্রি এবং চড়া সুদে দাদনের টাকা নিয়ে গ্যাস সংযোগে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। উপজেলার শুভুল্যা, উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী, পুষ্টকারী চরপাড়া, পুষ্টকামুরী খালেরপাড়, পুষ্টকারী জেলেপাড়া, পালপাড়া, সরিষাদাইর, সাহাপাড়া, আন্ধরা, বাইমহাটি, উপজেলা সদরের প্রফেসরপাড়া, আদালতপাড়া, কুমারজানি, ত্রিমোহন নদীরঘাট, গোড়াইল, কুতুববাজার, গোড়াই, হাটুভাঙ্গা, ক্যাডেট কলেজ, গোড়াই মইনগরসহ ১৫-২০ টি গ্রামে চলছে অবৈধ গ্যাস চুরির মহোত্সব। অবৈধ সংযোগে যে পাইপ দেয়া হচ্ছে তা অতি নিম্নমানের। ফলে প্রায়ই পাইপ ফেটে আগুনের সূত্রপাত হচ্ছে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোহাম্মদ তানবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। টাঙ্গাইল জেলা তিতাস গ্যাস এন্ড ডিস্টিবিউশন কোম্পানির ম্যানেজার মো. সুরুজ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় বেশ কিছু মামলা হয়েছে। তবে অচিরেই অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নর অভিযান শুরু হবে। এ জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।