শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

অজানাকে জানতে ভিনদেশে

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:১৭
প্রকৃতিতে চলছে ঋতুরাজ বসন্তের খেলা। অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে প্রকৃতি। এর মধ্যেই চলছে ক্লাস, এসাইনমেন্ট, পরীক্ষা, শেষ হতে চলেছে সেমিস্টার ফাইনাল। ফাইনালের পরেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বহু কাঙ্ক্ষিত সার্ক স্ট্যাডি ট্যুর। পরীক্ষার প্রস্তুতির সাথে সাথে চলে ভিসার আবেদন, ভিসার জন্য সাক্ষাত্কার ও অবশেষে ভারত ভ্রমণের ভিসা প্রাপ্তি। বহির্বিশ্বকে চেনা, জানা সর্বোপরি প্রকৃতির সঙ্গে কথা বলা এ কথাগুলো ভাবতেই যেন আনন্দের স্ফুলিঙ্গ হূদয় ছুঁয়ে যেতে লাগল। অজানাকে জানা মানুষের এক আজন্ম নেশা। আর এই অজানাকে জানা যদি হয় একই গ্রুপের সকল বন্ধু মিলে শিক্ষা সফরের মাধ্যমে তাহলে তো সোনায় সোহাগা। আর সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থীর বিদেশ ভ্রমণের গ্রুপ- যার পরিচিতি ‘দ্যা এক্সপ্লোরাস’ নামে। গ্রুপ টিচার প্রফেসর ড. মো. ইসমাইল হোসেইন এবং গ্রুপ লিডার শেখ মো. মামুর রশিদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও তত্ত্বাবধায়নে প্রস্তুতি পর্ব এগিয়ে যেতে থাকে। সকলেই নিজেদের ব্যাগ, পাসপোর্টসহ সকল প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে নিল ভ্রমণের একদিন আগেই। অবশেষে এল সেই কাঙ্ক্ষিত দিন-৮ মার্চ ২০১৪, দিনটি ছিল শনিবার। গন্তব্যে ভারত ও নেপালের বিভিন্ন প্রদেশ। সকলেই রাত ১০টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পানির ট্যাংকির মোড়ে উপস্থিত হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু ও ছোট ভাইয়েরা এলো বিদায় জানাতে। গোলাপের পাপড়ি, রজনীগন্ধার মিষ্টি গন্ধের সুবাসে আমাদের বিদায় জানালো আগতরা। এরই মধ্যে কেউ ছবি তুলছে, কেউবা দেখছে সব কিছু নিয়েছে কিনা। পক্ষকালের বিদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রার অকৃত্রিম আনন্দ ও প্রিয়জনদের থেকে কিছু সময় দূরে থাকার সাময়িক বেদনার জন্য আনন্দ মিশ্রিত অশ্রুতে এরই মধ্যে চোখ ভিজিয়ে ফেলেছে সাদিয়া, তানজু ও জেসিকা। ১১ টার মধ্যেই রাতের নিরবতা ভেঙ্গে গাড়ি ক্যাম্পাস ছেড়ে রওনা দিল অজানাকে জানার এক অতৃপ্ত বাসনায়। কিছদূর যাবার পরই সকল শিক্ষার্থীদের আনন্দের মাতোয়ারায় সরব হয়ে উঠল রাতের নিরবতা। এই আনন্দের মাঝেই যোগ দিয়েছে রাতের আকাশের চাঁদের মিষ্টি হাসি। অনেকক্ষণ হইহুল্লোড় করে সকলেই ক্লান্ত হয়ে নিজের বরাদ্দ জায়গায় বসে পড়ল। সকলেরই মনে হতে লাগত অনেক দিনের কাতি ট্যুর সত্যি হতে যাচ্ছে। হূদয়ের আনন্দের উল্লাসে, স্বপ্ন সত্যির উচ্ছলতায় সকলকে এক সময় দেখা যায় তন্দ্রায় আচ্ছন্ন। পরদিন সকালে ইমিগ্রেশনের সকল কাজ শেষ করে বিদেশের মাটিতে পৌঁছে আনন্দের আরেক ঢেউ সকলের হূদয় মন ছুঁয়ে গেল। রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন সৌন্দর্যমন্দিত দৃশ্যবলী দেখতে দেখতে দুপুরের দিকে পৌঁছে গেলাম কোলকাতা শহরে। হোটলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে বেরিয়ে পড়লাম বিখ্যাত প্লেব্যাক সিংগার, প্রবোধ চন্দ্র দে তথা মান্নাদের সেই স্মৃতি বিজড়িত কফি হাউসে। তারপর সন্ধ্যায় কোলকাতা শহরের মেট্রোরেলের ভ্রমণ এক নতুনত্বের আস্বাদন এনে দেয় যা অনেকের জানার মাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে দিল। শহর ভ্রমণ শেষে এবার হোটেলে ফেরার পালা। যেতে যেতে আনন্দের উল্লাসে সকলের থেকে আলাদা হয়ে পড়ল মাহিন, জিল্লুর, সাদিয়া, তানজু ও জেসিকা। নতুন শহরে মৃদু বাতাসের সোডিয়াম বাতির আলোয় বিভিন্ন দিক ঘুরে ঘুরে দেখা মনের আনন্দ বহু গুণ বাড়িয়ে দিলো। অবশেষে ঘুরে ফিরে সকলের সাথে আবারো তাদের একত্র হওয়া এবং পরের দিন হাওড়া জংশন স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা। হাওড়া ব্রিজের মনোমুগ্ধকর স্থাপত্যশৈলী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করল। হাওড়া জংশন রেল স্টেশন থেকে আগ্রার উদ্দেশ্যে ট্রেনের ৩৬ ঘন্টার ভ্রমণ সকলের মনে এক রোমাঞ্চিত শিহরণ জাগিয়ে তোলে। ট্রেনের ভিতর ঘুম, খাওয়া-দাওয়া, লুডু, কার্ড খেলা ও নানান বিষয়ে হাসি-রসিকতারর মধ্যে এক নতুন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘ যাত্রার সমাপ্ত ঘটে। বিষম ও সৌন্দর্যমন্দিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর ভূমি আগ্রার সেদিনের বৃষ্টি ভেজা শহরের রূপ আমাদের সকলকে ভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করে। ভ্রমণের সকল ক্লান্তি বৃষ্টির পানিতে ভিজে যেন নিমিষেই প্রকৃতির সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়। পরের দিন ১২ মার্চ মিষ্টি মৃদু রোদের উজ্জ্বল সকালের প্রকৃতি যেন আমাদের স্বাগত জানায় বিশ্বের সপ্তার্যের অন্যতম নিদর্শন ইতিহাসের সাক্ষী তাজমহল পরিদর্শনের। মূল গেট দিয়ে প্রবেশের পর লাল ইটের ইমারতের গেট যেন আমাদেরকে তাজমহল পরিদর্শনের জন্য স্বাগত জানায়। তাজমহলের প্রথম দর্শন সকলের মনে এক শিহরণ জাগিয়ে তোলে। তাজমহলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী ও এর প্রাকৃতিক দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ সকলকে মুগ্ধ করে। জনে জনে ছবি তোলা, সাদিয়ার ছবি তোলার নির্দেশনা ও মাহিনের কাচা হাতের গ্রুপ ছবি তোলার মাধ্যমে আমরাও এই স্থাপত্যের সাথে যেন একদিনের ভ্রমণ সাক্ষী হয়ে থাকলাম। তাজমহল থেকে বেরিয়ে ইতিহাসের আরেক নিদর্শন আগ্রা ফোর্টের উদ্দেশ্যে যাত্রা। আগ্রা ফোর্টের নিদর্শনাবলী যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। ফোর্টের ভিতরে নিদর্শন পরিদর্শনের সাথে সাথে এক দল বিদেশি বন্ধুর সাথে পরিচয় ও তাদের সাথে আমাদের ছবি স্মৃতির পাতায় আরো এক নতুন সংযোজন। আগ্রা ভ্রমণ শেষে আবারো এক নতুন প্রদেশ, সৌন্দর্যের আধার রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা। আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে টানেলের ভিতর দিয়ে জয়পুর শহরে প্রবেশের সময় রাত্রের পরিবেশের সৌন্দর্যের মুগ্ধতায় মুগ্ধ তাসনিয়ার উচ্ছ্বাসের দৃশ্য সকলের উল্লাসের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।