চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রবাল দ্বীপে ২৪ ঘণ্টা

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:২০
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা আর যান্ত্রিক জীবন যেন একই সুতায় বাঁধা। নিজেদের সকল সাধ-আহ্লাদকে বিসর্জন দিয়ে প্রতিদিনেই শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত থাকতে হয় বিভিন্ন পরীক্ষা, ল্যাব, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, কুইজ কিংবা ভাইভায়। এসবের ফাঁকে ফাঁকে যারা গবেষণা, লেখালেখি, ডিবেট কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের তো হাতে সময় থাকে না বললেই চলে। আর সপ্তাহান্তে কিছু সময় পেলেও তা বরাদ্দ রাখতে হয় টিউশনির জন্য। সব মিলে মহাব্যস্ত সময় কাটান একেকজন। আর এসব ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে প্রকৌশল বিদ্যার শেষ দিনগুলোকে আগলে ধরে রাখতে আমরা গিয়েছিলাম সৌন্দর্যের অপ্সরি, সাগর কন্যা সেন্ট মার্টিনের রুপালি বুকে। প্রবাল দ্বীপে একদিন থাকার জন্য পরদিনের ক্লাস আর ল্যাবকে ফাঁকি দিয়ে ২৬ মার্চ মধ্য রাতে ক্যাম্পাস থেকে ফারহান, রায়হান আর শিবলীর ব্যবস্থাপনায় আমরা চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তড়িত্ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগের ৫৪ জন শিক্ষার্থী রওনা দিয়েছিলাম। রাতের বাস ভ্রমণ শেষে পরদিন সকাল ৭টায় পৌঁছালাম টেকনাফে। তার দুই ঘণ্টা পরেই কাজল নামক জাহাজে করে নাফ নদী আর মিয়ানমার উপকূল পেরিয়ে ঘণ্টা তিনেক বঙ্গোপসাগরের বুকে ভাসার পরে নামলাম প্রবাল দ্বীপে। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে চারপাশের নীল পানিকে প্রতিবেশী করে বসবাস করা এই প্রবাল দ্বীপটিকে ‘রুপালি দ্বীপ’ নাম দিয়েছেন কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। পুবের এলোমেলো বাতাস আর পশ্চিমের নীল সাগরের মাঝে থাকা এই দ্বীপটি নারকেল জিঞ্জিরা নামেও বহুল পরিচিত। আগে থেকে ভাড়া করা হোস্টেলে ব্যাগ রেখেই ফুটবল নিয়ে নেমে গেলাম সমুদ্র সৈকতে। লবণাক্ত পানির মধ্যে হই-হুল্লোড় করে সহপাঠিদের সাথে কাটালাম বেশ কয়েক ঘণ্টা। পানিতে নামার ইচ্ছা থাকলেও অন্যদের ফটো তুলেই কাটাতে হয়েছে সারাটা সময়। সমুদ্র সৈকতে কপোত-কপোতিদের দেখে প্রথমে কয়েকজন হতাশা জ্ঞাপন করলেও বন্ধুদের উচ্ছ্বাসে সারাক্ষণ মেতেছিল সবাই। প্রথমবারের মত সবাই একসাথে ঘুরতে গিয়ে সারাক্ষণই ব্যস্ত ছিল সাঁতার, ছবি তোলা আর খুনসুটিতে। বিকালে হোস্টেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে কেউ দিল ঘুম আর কেউবা ছুটলাম বাজারে সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই খেতে। বাজারে গিয়ে দেখা হয়ে গেল ঘুরতে আসা কম্পিউটার কৌশল, যন্ত্রকৌশল আর পুরকৌশলের আরো কয়েকজন বন্ধুর সাথে। সবমিলে এখন আমরা হয়ে গেলাম ৭০ জন।