অবশেষে চাঁদপুর রেলওয়ে কোর্ট স্টেশন ভবনটি সংস্কার ও পুনঃ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এই কাজটি করার পূর্বে সমস্ত প্লাটফর্মের উপরের চাল খুলে ফেলা হয়েছে। এতে যাত্রী ও রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর রোদ বৃষ্টিতে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে ৮টি স্টেশনের রি-মডেলিং ও রিপেয়ারিং কাজ গত ১ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। এ কাজের জন্য রেলওয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৫ কোটি টাকার কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়। বরাদ্দের পর ৩০ ভাগ কাজ করে বাকি কাজ অসমাপ্ত রেখে ৩৪ কোটি টাকা নিয়ে কাজ বন্ধ করে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, লাকসামের চিতোষী থেকে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন পর্যন্ত ৭টি স্টেশন পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার কাজের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে। চিতোষী, মেহের, হাজীগঞ্জ, বলাখাল, মধুরোড, সাহাতলী এ ৬টি পুরাতন স্টেশন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন এবং চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন ভবন সংস্কার এ কাজের অন্তর্ভুক্ত। এ প্রকল্পে কাজের ঠিকাদার নিযুক্ত হয় ঢাকার কাশেম কনস্ট্রাকশন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১২ সালের ২৭ জানুয়ারি কাজ শুরু করে। ২০১৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ৩০ ভাগ কাজ করে বাকি ৭০ ভাগ কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যায়। চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বছরখানেক পূর্বে রিপোরিং কাজের স্টেশন ভবনের আস্তর ভেঙ্গে ফেলা হয়। স্টেশন অফিসের কাজ অস্থায়ীভাবে ওয়েটিং রুমে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। টয়লেট ব্যবহারের পরিবেশ নেই। প্লাটফর্ম শেডে টিনগুলো খুলে ফেলা হয়েছে। যাত্রীদের বসার কোন স্থান নেই। সামান্য বৃষ্টিতে যাত্রীরা দাঁড়াতে পারছে না। বিদ্যুত্ দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বুকিং অফিস, বৈদ্যুতিক পাখা, অ্যানাউন্স মাইক। বৃষ্টির পানিতে মাইক ও বৈদ্যুতিক পাখা নষ্ট হচ্ছে। অন্য স্টেশন ভবনগুলোর অবস্থা শোচনীয়।
