গুম ছেলে ফিরে আসায় পিতা বিপাকে

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪১
অপহরণের অভিযোগে চলে অভিযুক্তদের বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাংচুর, রাখা হয় একঘরে করে নিজের ছেলেকে সরিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের মামলা করার পর ফেঁসে গেলেন মামলার বাদি। কথিত গুম হওয়া কিশোর ওমর মোল্লা (১৪) প্রায় দুই বছর আত্মগোপনে থাকার পর নিজ বাড়িতে ফিরে আসলে পুলিশ তাকে আটক করে। গত শনিবার রাতে মাগুরার মহম্মদপুরের বড় বালিদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওমর মোল্লা ওই গ্রামের আঃ শুকুর মোল্লার ছেলে। পুলিশ জানায়, প্রায় বছর আগে উপজেলার বড় বালিদিয়া গ্রামের শুকুর মোল্লার ছেলে ওমর মোল্লা নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার পিতা আঃ শুকুর মোল্লা বাদি হয়ে প্রতিবেশী চার পিতা-পুত্রকে আসামি করে মাগুরার আদালতে মিথ্যে মামলা করেন। মামলার পর ওই গ্রামের তাহাজ্জত মোল্লা ও তার তিন ছেলে মনিরুল, ইয়ারুল এবং ইমরান দীর্ঘ সময় জেল কেটে এখন জামিনে মুক্ত আছেন। বিচারাধীন এই মামলায় প্রতি মাসে তাদের আদালতে হাজিরা দিতে হয়। অপহরণের অভিযোগে গ্রামবাসীর সহানুভূতি নিয়ে কথিত অভিযুক্তদের বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাংচুর চালায় বাদিপক্ষের লোকজন। সামাজিকভাবে গ্রামে তাদের একঘরে করে রাখা হয়। টানা দুই বছর পালিয়ে থাকার পর শুকুর মোল্লার কথিত গুম হওয়া ছেলে ওমর মোল্লা নিজ গ্রামে আসলে গোপন সংবাদ পেয়ে মহম্মদপুর থানার পুলিশ তার নিজের বাড়ি থেকে আটক করে। ওমর আটকের পর তার পিতা ভাইয়েরা পলাতক রয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কথিত অপহূত ওমর জানায়, সে তার পিতার নির্দেশে এই দুই বছর ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করত। গোপনে সে বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে এসেছিল। ভুক্তভোগী তাহাজ্জত মোল্লা জানান, গ্রাম্য দলাদলি ও জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আমার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।