কোচিং ক্লাসে না আসার অপরাধে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাকাই নিরঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র দাসের বেত্রাঘাতে অষ্টম শ্রেণীর ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালের এ ঘটনায় এক ছাত্রীর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ভেঙ্গে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রদীপ কুমার সকাল ১০টার দিকে অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান ক্লাস নিচ্ছিলেন। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র দাস মোটা একটি বেতের লাঠি নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে শনি, রবি ও সোমবার বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত কোচিং ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার কারণে ১৪-১৫ শিক্ষার্থীকে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে বেত্রাঘাত করেন। এতে খাদিজা আক্তার, তুষার, রাজিব, শিউলী, সাদিয়া আক্তার, পিংকি খানম, পলি আক্তার শান্তাসহ ১০ শিক্ষার্থী আহত হন।
উপজেলার মাগুরা মাদারীপুর গ্রামের কাদের তালুকদারের কন্যা আহত ছাত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, অসুস্থ বাবাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবার কারণে আমি কোচিং ক্লাসে আসতে পারি নাই। এ কথা বলার সাথে সাথে স্যার (প্রধান শিক্ষক) মোটা একটি বেতের লাঠি দিয়ে আমাকে পিটিয়ে জখম করেন। তাত্ক্ষণিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মানিক খান আমাকে নিয়ে বাকাই ঘোষেরহাটের পল্লী চিকিত্সক ডা. দেলোয়ার হোসেনের কাছে চিকিত্সা করান। পরে ডান হাতের আঙ্গুল এক্স-রে করে ডাক্তার দেখেন সেটি ভেঙ্গে গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র দাস বলেন, ক্লাসে না আসার কারণে বিদ্যালয়ের ভাল ফলাফলের স্বার্থে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজাসহ ৫-৬ শিক্ষার্থীকে একটু শাসন করেছি।
