শুভশ্রী
চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় নতুন একটি চলচ্চিত্রের শেষ পর্যায়ের শুটিংয়ের কাজ চলছে। ছবির নাম ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’। ছবিটি পরিচালনাও করছেন দু’জন। ওপার বাংলার অশোক পতি এবং আমাদের দেশের অনন্য মামুন। ঢালিউড আর টলিউড মিলিয়ে একাধিক তারকা এতে অভিনয় করেছেন। এ ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলকাতার শীর্ষ নায়িকা শুভশ্রী। সারাদিন শুটিং শেষ করে হোটেলে ফিরে তবেই সময় দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। সেসময় টিভি ক্যামেরাও অন থাকবে। শুটিং শেষ করে কেবল মেকআপের আস্তরণটা একটু তুলতে শুরু করেছিলেন হোটেলে। ঠিক তখনই এই এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউের জন্য কথা বলতেই ক্লান্ত চোখে শুভশ্রী বললেন, ‘এখন কথা কেন আমি সারারাত আড্ডা দিতে পারি। কিন্তু মামুন তো ঠিকই ভোর ৪টায় উঠে রেডি হতে বলবে।’ রাত তখন সাড়ে বারোটা। আউটডোর শুটিংয়ে এটাই এক নিয়ম—প্রতিটি মিনিট এখানে প্রোডাকশন গুনছেন তারকা শিডিউল হিসেবে। সেখান থেকে মধ্যরাতে ২ ঘণ্টার একটা শিডিউল বের করে তবেই একটা এক্সক্লুসিভ আড্ডা হলো।
প্রথম যখন এই ছবিটা নিয়ে কথাবার্তা হলো, তখন বাংলাদেশ সম্পর্কে কৌতূহল বা জানাশোনা কেমন ছিল?
আসলে আমি এসকে মুভিজের সাথে এতটা পারিবারিকভাবে মিশি যে, ওদের যেকোনো ছবির ব্যাপারেই আমাদের জানাশোনা থাকে। এই ছবিতে আমি বাংলাদেশের মেয়ের চরিত্রেই কাজ করছি। আর অনেকদিন ধরেই এদেশে আসার খুব ইচ্ছে ছিল। সেটা এবারে পূরণ হলো। এখানকার সবাই খুবই অতিথিপরায়ণ এটা শোনা ছিল এতদিন। এবার সত্যিকার অর্থেই তা-ই দেখলাম।
ওপার বাংলার যেকোনো ছবির প্রমোশনে তো যেকোনো টিভি অনুষ্ঠানে আপনাকে দেখা যায়। যেহেতু এই ছবিটা যৌথ প্রযোজনায়, ছবির প্রমোশনে বাংলাদেশ নিয়ে কী ধরনের প্ল্যান রয়েছে?
পরিকল্পনা তো অবশ্যই রয়েছে। এবং যেহেতু প্রথম এ ধরনের ছবি করছি। আমি অবশ্যই ছবির প্রমোশনের কাজে আসতে চাই। এবারে খুব অল্প সময়ের নোটিশে এসেছি। তাই খুব একটা ঘুরতেও পারিনি। সেবার ঘোরারও ইচ্ছে আছে।
আপনাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এখন দুই ক্যাটাগরির চলচ্চিত্র হয়। একটা ক্লাসিক ঘরানার, আরেকটা একেবারে কমার্শিয়াল ঘরানার। সেক্ষেত্রে শুভশ্রীদের মতো তারকাদের ক্লাসিক ঘরানা থেকে দূরে থাকার কারণটা কী?
দেখুন একটা ভাগ আছে ঠিকই। কিন্তু দর্শক বিচারে এখন কিন্তু দুটোই কমার্শিয়াল। সেটা ‘অটোগ্রাফ’ বলুন বা ‘গয়নার বাক্স’ বা আমার ‘বস’ ছবিটি। এখন ওই ধরনের ছবিও কিন্তু সবসময় হাউসফুল যাচ্ছে। আমি নিজেও অঞ্জন দত্তের একটি ছবির কাজ শেষ করলাম। এ ছবিটিও আমি মনে করি আমার যেকোনো কমার্শিয়াল ছবির মতোই দর্শক পাবে।
শুভশ্রীর দীর্ঘদিনের এই চলচ্চিত্র-যাত্রা তো আজ পরিণত পর্যায় রয়েছে। কলকাতা থেকে শুরু করে গোটা ভারতবর্ষজুড়ে এখন লোকসভা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারকারাও। দেব সেখানে অন্যতম নাম হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে। সামাজিক বা রাজনৈতিক কাজে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
না। না। না। (হাত জোড় করে) আমায় ক্ষমা করবেন। আমি আর বড়জোর ৫-৬ বছর অভিনয় করব। এরপর বিয়ে করে শুধু সংসার... আর ক্যামেরার সামনে আমাকে আপনারা পাবেন না।
বলেন কী! এটা কি কোয়েল মল্লিকের বিবাহোত্তর ক্যারিয়ার পতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা দেখে বলছেন কি?
না, আমি কারো সম্পর্কেই কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটা আমার একান্ত ইচ্ছে। চুটিয়ে কিছুদিন অভিনয় করব। এরপর বিয়ের পর মন দিয়ে সংসার, রান্নাবান্না, সন্তান লালন-পালনে ব্যস্ত হবো।
দেবের প্রসঙ্গ যেহেতু এলোই। দেবের সাথে আপনার সম্পর্কের রসায়ন ঘোষিত ছিল। বিচ্ছেদও হয়েছে ঘোষণা দিয়েই। ছবির সাফল্যে জুটির মধ্যকার রসায়নের গুরুত্ব নিয়ে বলুন।
তা তো অবশ্যই করে। যেমন অংকুশের সাথে আমার দারুণ এক রসায়ন তৈরি হচ্ছে আমি বলব। কারণ আমিও বর্ধমানের মেয়ে, অংকুশও বর্ধমানের। একটা জুটি স্থায়িত্ব পেলে তা অবশ্যই ছবির সাফল্যের ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। আর দেব সম্পর্কে তো বলেছি অনেক কিছু অনেক পত্রিকায়। আপনারা তো সবই জানেন। নতুন করে কী আর বলবো। নতুন করে কিছু রসায়ন তৈরি হলে বলব। হা হা হা।
ইন্টারভিউ শেষ করতে হলো। রাত তখন প্রায় পৌনে দুটো। মাত্র দু ঘণ্টা পরেই আবার উঠে তৈরী হতে হবে পরদিনের শুটিংয়ের জন্য। মামুন বারবার আমায় হাতজোড় করে ইশারা করছেন। ‘ওকে ছেড়ে দিন। এখন ও রুমে গেলে ঘুমানোর সময়ও পাবে না।’ এদিকে শুভশ্রীর ক্লান্ত চোখও ছোট হয়ে আসছে ক্রমশ। উঠতে উঠতেই বলছেন, ‘মামুন। কাল কলটাইম এক ঘণ্টা না পেছালে আমি মারাই যাব। প্লিজ।’
মারা যাননি শুভশ্রী। বাঙালির আতিথেয়তায় কেউ মরে না। সে শুধু শুভশ্রী কেন। সকলের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। শুভশ্রী তার অভিনয়ের শুভ্রতা ছড়িয়ে দিক—সেই শুভকামনা।
