একজন প্রকৃত অভিনয়শিল্পী হওয়ার
বাসনা নিয়েই অভিনয়ে নিজেকে জড়িয়েছেন হুমায়রা হিমু। সময়ের হাওয়ায় তিনি
এখন একজন সফল অভিনেত্রী। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে তার বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটক। তাকে নিয়ে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি
তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত
সাঁঝের আলোতে যেমন একটা মায়া থাকে, অভিনয়ের প্রতিও তেমনি মায়া কাজ করে হিমুর মনে। তাই তো অভিনয়ের শুরু থেকে তিনি একটা দর্শন মেনে পথ চলছেন। সেটা হলো অনেক বেশি কাজ করার চেয়ে একটু কম কাজ করবেন। সংখ্যার চেয়ে তিনি কাজের মানের দিকে বেশি নজর দেন। এর ফলে কাজ নিয়ে কখনও তার মাঝে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। হিমুর ভাষ্যে, ‘আমি কখনও এমনটি চাইনি যে, আমাকে অনেক অনেক নাটকে অভিনয় করতে হবে, সব সময় টিভিপর্দায় নিজেকে দেখতে হবে, এই ভাবনা আমাকে কখনও তাড়া করেনি।’ সময়ের বিবর্তনে কাজ নিয়ে এখন নতুন নতুন ভাবনার ডালপালা প্রসারিত হয়েছে হিমুর মনে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন আমার কাজ নিয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত। আর আমি এখন তা-ই করছি। ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে আমি আমার চরিত্রে কোনো রিপিটেশন চাই না। এখন একটি স্ক্রিপ্ট পাওয়ার পর দেখি সেখানে নিজের অভিনয়ের কতটা সুযোগ রয়েছে। এখন আমি আসলে একটু ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রই খুঁজি। আমি যেহেতু দর্শকদের জন্য কাজ করি, নিজের আনন্দ থেকে কাজ করি, তাই দর্শকদের নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টাটা এখন থেকে আরও জোরালো হবে।’
বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে হিমু অভিনীত বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটক, এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে—‘সংঘাত’, ‘বাতিঘর’, ‘ভালোবাসার কারিগর’ ইত্যাদি। এছাড়া ‘গ্রামের নাম মোল্লাকান্দি’ ও ‘আনন্দগ্রাম’ নামে নতুন দুটি ধারাবাহিকের কাজও শুরু করবেন খুব শিগগিরই। সেই সাথে একক নাটকের কাজ তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে বলা যায় বর্তমান মিডিয়াতে বেশ ব্যস্ত সময়ই পার করছেন তিনি। এর মূল কারণ হচ্ছে সবরকম চরিত্রেই নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার তার অসাধারণ ক্ষমতা। সব রকম চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার গল্প জানতে চাইলে হিমু বলেন, ‘আমার কাছে যখন স্ক্রিপ্ট আসে তখন আমি পুরোটাই পড়ে ফেলি। বেশি জোর দিই আমার চরিত্রের উপর। এরপর চরিত্রটি নিয়ে ভাবি। আমার আশপাশের মানুষগুলোকে সেই চরিত্রের সঙ্গে মেলাতে চেষ্টা করি। তবে আমার চেষ্টা থাকে চরিত্রটাকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে। স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী সেই চরিত্রের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে আমি চেষ্টা করি। একেবারে মিশে যাই চরিত্রের ভেতর।’ মিডিয়ার সাথে তার সম্পর্ক দীর্ঘ ছয় বছর এবং অভিনেত্রী হিসেবেও সফল। নিজের সফলতা সম্পর্কে হিমু বলেন, ‘আমার আজকের সাফল্যের পেছনে আসলে কাজ করেছে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা। কেননা আমি যখন যে চরিত্রে অভিনয় করি, তা সত্যিকার অর্থেই ভালোবেসে ও বেশ যত্ন নিয়ে করেছি। আজকে আমার যে সাফল্য, তা পেতে আমাকে সময়ানুবর্তী হতে হয়েছে।’ ছোটপর্দার পাশাপাশি রুপালি পর্দাতেও নিজের নাম লিখিয়েছেন হুমায়রা হিমু। তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘আমার বন্ধু রাশেদ’-এ সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকের ভালোই সাড়া পেয়েছেন। বর্তমানে অভিনয় করছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের পরিচালনায় ‘এক কাপ চা’ ছবিতে। এতে হিমু গেস্ট আর্টিস্ট হিসেবে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রে নিয়মিত হওয়া প্রসঙ্গে হিমু বলেন, ‘ভালো গল্প ও পরিচালক পেলে চলচ্চিত্রে কাজ অবশ্যই করব।’ ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে হিমু বলেন, ‘আমি অভিনয়কে ভালোবাসি। তাই সারাজীবন অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। একজন প্রকৃত অভিনয়শিল্পী হতে চাই।’
