ঁজাস্টিন টিম্বারলেক, একাধারে একজন মার্কিন অভিনেতা এবং গায়ক। দুই আঙ্গিনাতেই সমান জনপ্রিয়তা তার। বয়সটা অল্প হলেও অর্জনগুলো বয়সের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি আবারও আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন তার নতুন মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে। তার কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
জাস্টিনের দ্বিতীয় সলো অ্যালবাম ‘ফিউচার সেন্স/লাভ সাউন্ড’ এখনও হটকেকের মতো বিক্রি হচ্ছে। এতেই বোঝা যায় শ্রোতারা টিম্বারলেক জাদুতে কতটুকু বুঁদ হয়ে আছেন। জাস্টিন টিম্বারলেকের বয়সটা অল্প হলেও অর্জনগুলো কম নয়। তার প্রথম পরিচয় গায়ক হলেও তিনি একেধারে অভিনেতা, ব্যবসায়ী, গীতিকার। ১৯৮১ সালের ৩১ জানুয়ারি আমেরিকার অঙ্গরাজ্য টেনিসির মেসফিসে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম জাস্টিন র্যান্ডেল টিম্বারলেক। বাবা র্যান্ডেল টিম্বারলেক এবং মা লিন বোমার। মা-বাবার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের পর দুজনেই নতুন করে বিয়েও করেছেন। জাস্টিন তার শৈশব কাটিয়েছেন উত্তর মেমফিসের ছোট টাউন মিলিস্টনে। ১৯৯৩ সালে জাস্টিন যোগ দেন দ্য মিকি মাউস ক্লাবে। এখানে এসে তিনি পরিচিত হন অনেকের সঙ্গে যারা বর্তমানে তারকা। সে ক্লাবে ছিলেন ব্রিটনি স্পিয়ার, ক্রিস্টিনা অ্যাগুইলেরা। ওই ক্লাবে অবস্থানকালীন সময়ে ব্রিটনির সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়। পরে জাস্টিনের প্রেমিকা হয়ে ওঠেন ব্রিটনি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জেসি চেজের সঙ্গে পরিচয় হওয়াটা। কারণ ১৯৯৫ সালে দ্য মিকি মাউস ক্লাব শো শেষ হওয়ার পর জাস্টিন এই চেজ এবং নিজের বন্ধু ক্রিস কার্কপ্যাট্রিককে নিয়ে এ সময়ের জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত বয়ব্যান্ড এন সিঙ্ক গড়ে তোলেন। দল গঠনের একবছর পরই জার্মানিতে এক শোর মধ্য দিয়ে এন সিঙ্ক তাদের ক্যারিয়ার শুরু করে। আমেরিকান দল হলেও তারা সেখানে শো করে ১৯৯৮ সালে। ২০০০ সালে এন সিঙ্ক প্রথম অ্যালবাম রিলিজ করে। এটি সর্বকালের দ্রুত বিক্রিত অ্যালবামের রেকর্ডটি করে ফেলে। ২০০২ সালে ব্যান্ডটি সিদ্ধান্ত নেয় খানিকটা বিশ্রামের। ঠিক তখন টিম্বারলেক সিদ্ধান্ত নেয় নিজের একক অ্যালবাম করার। সেইভাবে তিনি কাজও শুরু করে দেন। ২০০২ সালের মার্চের দিকে টিম্বারলেকের সঙ্গে ব্রিটনির সম্পর্কটাও ভেঙে যায়। এর প্রভাবও পড়ে তার গানের ক্ষেত্রে—গানের রচনা ও সুরে বেশ পরিণত ভাব চলে আসে টিম্বারলেকের। তার হিট সিঙ্গেল ‘ক্রাই মি অ্যা রিভার’-এ টিম্বারলেকের ব্রিটনির বিচ্ছেদের বেদনাই উঠে এসেছে। ২০০২ সালের আগস্টে এসটিভি ভিডিও মিউজিকে অ্যাওয়ার্ডে জাস্টিন টিম্বারলেক তার প্রথম সিঙ্গেল ‘লাইফ আই লাভ ইউ’ পরিবেশন করেন। গানটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং এটি বিলবোর্ড টপ ১০০-এ ১১ নম্বরে উঠে আসে। গানটির জনপ্রিয়তা থাকতে থাকতেই জাস্টিন তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘জাস্টিফাইড’ ২০০২ সালের ৫ নভেম্বর রিলিজ করেন। প্রথম সপ্তাহেই এটি বিক্রি হয় ৪,৩৯,০০০ কপি। উঠে যায় বিলবোর্ড ২০০ অ্যালবাম চার্টের দ্বিতীয় স্থানে। পরে এই অ্যালবামটি শুধু আমেরিকাতেই বিক্রি হয়েছিল ৩৫ লাখ এবং সারাবিশ্বে ৭০ লাখ। শুধু তাই নয়, অ্যালবামটি সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সক্ষম হয়। অ্যালবামের সাফল্যে ২০০৩ সালে জাস্টিন তার বান্ধবী ক্রিস্টিনা আগুইলেরাকে নিয়ে ‘জাস্টিফাইড ট্রিপড ট্যুর’-এ বের হন। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি সুপার বোলের ৩৫তম আসরে গান পরিবেশন করার সময় জাস্টিন এক পোশাক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন। এর জন্য তিনি ও তার সহশিল্পী জ্যানেট জ্যাকসন সারাবিশ্বে বেশ নিন্দিত হন। ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নয় বলে জাস্টিন আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনাও করেন। জ্যানেট জ্যাকসন এই ঘটনার পর জাস্টিনের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। তবে ২০০৫-এ এসে তাদের মধ্যে সমস্যা কেটে গেছে। তাদের মধ্যে সম্পর্ক আগের অবস্থাতে ফিরে গেছে। জাস্টিন তার সংগীত ক্যারিয়ারের প্রথম থেকেই অভিনয় শুরু করেন ছোটখাটো চরিত্র দিয়ে। ২০০০ সালে টেলিভিশনের জন্য নির্মিত ‘মডেল বিহেভিয়র’ ছবিতে একজন মডেলের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এরপর সংগীতে কম সময় দিয়ে হলেও অভিনয়ের জন্য চরিত্রের খোঁজ করতে থাকেন। পেয়েও যান ২০০৪ সালের থ্রিলার ছবি ‘এডিসন ফোর্স’। এই ছবিতে তিনি একজন সাংবাদিকের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এ পর্যন্ত তার ১৬টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে ‘লং শট’, ‘আলফা ডগ’, ‘ওয়ান দ্য লাইন’, ‘ইডিমস’, ‘দ্য লাভ গুরু’, ‘ব্ল্যাক স্নেক ময়ান’, ‘রিচার্ড কেলিস সাউথল্যান্ড টেলস’, ‘দ্য ওপেন রোড’, ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’, ‘ব্যাড টিচার’, ‘ফ্রেন্ডস উইথ বেনিভিট’, ‘ইন টাইম’, ‘ইউগি বিয়ার’। পাশাপশি অ্যানিমেটেড ফিল্ম ‘শ্রেক থ্রি’তে তরুণ কিং আর্থারের কণ্ঠস্বর দিয়েছেন। অভিনয়ে পুরোপুরি সময় দেওয়ার কারণে তার নতুন কোনো অ্যালবাম বাজারে না এলেও মিউজিক থেকে দূরে সরে যাননি। দলের হয়ে বিভিন্ন দেশে কনসার্ট ট্যুরে অংশ নিচ্ছেন। এ বছরের মোস্ট স্টাইলিস্ট ম্যান-এর খেতাবটি জিতে নিয়েছেন এই হার্টথ্রব গায়ক ও অভিনেতা। এই তালিকায় জাস্টিনের পরই আছেন র্যাপার কেনি ওয়েস্ট। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ী জাস্টিন টিম্বারলেক বর্তমানে শুটিং করছেন ‘ইনসাইড লিয়ন ডেভিস’ ও ‘ক্যাচিং ফায়ার’ নামে আরও দুটি ছবির যা আগামী বছর মুক্তি পাবে।
