গফরগাঁওয়ে বহু নলকূপ অকেজো

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫৭
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ থেকে ২৩ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় প্রায় ২৫ হাজার নলকূপে পানি উঠছে না। অপরদিকে কৃষকরা তাদের বোরো ক্ষেতে সেচ কাজ চালাতে ১০/১২ ফুট মাটি খুঁড়ে গর্ত করে সেচ পাম্প স্থাপন করছেন। অন্যদিকে খাবার পানির অভাবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। খাবার পানি থেকে শুরু করে গৃহস্থালির কাজে লোকজনকে সেচ কাজে ব্যবহূত শ্যালো ও গভীর নলকূপের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিএডিসির (সেচ) উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের জরিপ অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে উপজেলার ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২৩ ফুট নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে উপজেলায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ১৪.০৪ মিটার বা ৪৬ ফুট নিচে। বিএডিসি সেচের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ভূ-গর্ভস্থ থেকে অধিক হারে পানি উত্তোলনের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না। উপজেলার বাঘেরগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে সেচ কাজে ব্যবহূত ডিপটিউবওয়েল থেকে নারী ও শিশু লাইন ধরে গৃহস্থালি কাজের জন্য পানি সংগ্রহ করছে। অনেকে ১ থেকে ২ কিলোমিটার দূর থেকে এসে পানি সংগ্রহ করছে। গ্রামের স্কুল ছাত্রী সারা, গৃহবধূ রিনা বেগম, বেদেনা আক্তার জানায়, পানির জন্য সকাল থেকেই ডিপটিউবওয়েলে লাইন ধরতে হয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর পানি মেলে। মালিকরা যদি ডিপটিউবওয়েল চালু না করে কিংবা বিদ্যুত্ না থাকে তাহলে আর দুর্ভোগের শেষ থাকে না। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান খান বলেন, এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সেচ কাজে ভূ উপরিভাগের পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সেচসহ নানা কাজে বৃষ্টির পানি কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য নদী ড্রেজিং ও খাল খনন, নালা সংস্কার ও ক্রসড্যাম নির্মাণ বাড়াতে হবে।