স্ব-ইচ্ছায় স্বামীর বাড়ি ছেড়ে না যাওয়ায় নয় বছর ধরে নির্যাতন, ভুয়া তালাকনামা তৈরি করে তালাক। গ্রাম্য বিচারের পর পুনরায় বিয়ে এবং সর্বশেষ হাত-পা বেঁধে বাঁশের কঞ্চির চাবুক দিয়ে স্বামীসহ সতীনের সন্তানেরা মোহাসিনা (২৮) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নির্যাতিতা মোহাসিনা নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন।
ঘোড়াঘাট হাসপাতালে চিকিত্সাধীন মোহাসিনা জানান, ২০০৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নবাবগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাটিকামারী (গিলাবাড়ী) গ্রামের ওবায়দুল রহমানের মেয়ে মোহাসিনা বেগমকে বিয়ে করেন আতিয়ার।
বিয়ের পর থেকেই অন্যত্র চলে যেতে স্বামীসহ সতীনের সন্তানেরা মোহাসিনাকে নির্যাতন শুরু করে। এর মধ্যে মোহাসিনা এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। তৃতীয় সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় ২০১০ সালে ভুয়া তালাকনামা তৈরি করে মোহাসিনাকে তালাক দেয়ার চেষ্টা করে আতিয়ার। বিষয়টি জানতে পেরে মোহাসিনা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে বিচার দেন। বিচারে আতিয়ার রহমান ভুল স্বীকার করে পুনরায় মোহাসিনাকে বিয়ে করেন।
এরপরও নির্যাতন চলতে থাকে মোহাসিনার উপর। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে মোহাসিনার হাত-পা বেঁধে চাবুক মেরে নির্যাতন চালাতে থাকেন আতিয়ার রহমানসহ তার সন্তানেরা।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত মঙ্গলবার বিকেলে মোহাসিনা ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তার পিঠে ছয়টি ও পায়েও কিছু দাগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আতিয়ার রহমান তিনি ও তার সন্তানসহ মোহাসিনাকে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
