দোষী পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৩৫
রামপুরা থানা এলাকায় উদ্ধারকৃত সোনার চালানের একটি বড় অংশ আত্মসাতের ঘটনায় কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যরা সম্পৃক্ত থাকায় পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, দুই একজন অসত্ পুলিশ সদস্যের জন্য পুরো বাহিনীর সুনাম নষ্ট হচ্চ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ ৩৫০টি সোনার বার উদ্ধার হলেও দেখানো হয় ৭০টি বার। বাকি স্বর্ণ আত্মসাত্ করে উদ্ধারকারী পুলিশ দল। পরে একজন সহকারী পুলিশ কমিশনারের অফিসে স্বর্ণ চোরাকারবারীদের সাথে বৈঠক হয়। বৈঠকের পর উদ্ধারকৃত স্বর্ণসহ গাড়ি ছেড়ে দেয়ার জন্য রামপুরা থানার ওসিকে ওই সহকারী পুলিশ কমিশনার চাপ দেন। ওসি এ নির্দেশনা মানতে রাজি না হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বিদায় করে দেয়ার হুমকি দেন ওই কর্মকর্তা। নাছোড়বান্দা পুলিশের রামপুরা থানার ওসি। তিনি সোনা চোরাচালানির ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে আসে এ স্বর্ণ চোরাচালানির সঙ্গে পুলিশ জড়িত। চোরাকারবারীদের সঙ্গে পুলিশের ওই কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের সখ্যতা রয়েছে। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে ওই স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত পুরো ঘটনা বেরিয়ে আসে। তাত্ক্ষণিকভাবে পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি ইত্তেফাক’কে বলেন, গুটিকয়েক পুলিশ সদস্যের অপকর্মের জন্য প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে না। মামলাটির তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপর ন্যস্ত করার নির্দেশ দেন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে গ্রেপ্তারকৃত রামপুরা থানা সিভিল টিমের এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, পুলিশ কনস্টেবল ওহিদুল, আকাশ চৌধুরী ও পুলিশ সোর্স রনিকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তারা স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার ও উদ্ধারকৃত স্বর্ণ আত্মসাতের রহস্য গোয়েন্দা পুলিশের কাছে প্রকাশ করে দেয়। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকারও জড়িত পুলিশদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক যাতে করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে বৃহত্তর পুলিশ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করার সাহস আর কেউ না পায়। ভবিষ্যতে এটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। গত ১৩ মার্চ গভীর রাতে রামপুরা থানার সিভিল টিমের এসআই মঞ্জুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহল দল সন্দেহজনক একটি প্রাইভেটকারকে চ্যালেঞ্জ করে। ওই সময় আরোহীরা প্রাইভেটকার রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ প্রাইভেটকারটি জব্দ করে এর ভেতর থেকে ৫০ কেজি ওজনের ৩৫০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে। পরবর্তীতে উদ্ধারের তালিকায় স্বর্ণের ৭০টি বার দেখানো হয়। বাকি স্বর্ণ ওই পুলিশ দল আত্মসাত্ করে। সহকারী পুলিশ কমিশনারের বৈঠকে চোরাচালানিরা স্বীকার করে যে, প্রাইভেটকারে ৩৫০টি স্বর্ণের বার ছিল। যার ওজন ৫০ কেজি। তবে গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, প্রাইভেটকারটিতে ২৩৫টি স্বর্ণের বার ছিল। এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ২১৯টি। ১৬টি বার এখনও উদ্ধার হয়নি। মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা এক বাক্যে বলেন, এ ধরনের পুলিশ সদস্যের জন্য দেড় লাখ পুলিশ সদস্যের ভাবমূর্তি জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেয়া যায় না। তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সুপারিশ করেছে।