নেত্রকোনা জেলা সদর, পূর্বধলা, দুর্গাপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত মঙ্গলবার মধ্য রাতে প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কমপক্ষে চার শতাধিক কাঁচা ও আধাপাকা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছ উপড়ে ও ভেঙ্গে পড়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ও খুঁটি উপড়ে বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। গত মঙ্গলবার এবং গতকাল বুধবার পর্যন্ত পূর্বধলা, দুর্গাপুর এবং নেত্রকোনায় বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ঘূর্ণিঝড়ে গাছের ডালপালা এবং বিধ্বস্ত ঘরের বাঁশ পড়ে ১৫ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের পারলা, সাকুয়া, নূরপুর, নেত্রকোনা পৌর সভার খতিবনগুয়া, ধারিয়া, বলাইনগুয়া, কাটলী, জয়নগর, ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের বাঘরুয়া, পাঁচপাই, তাতিয়র, পাহাড়পুরসহ বিভিন্ন গ্রামের উপর দিয়ে স্বল্পক্ষণ স্থায়ী কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে সাকুয়ায় এআরএফবি ফাউন্ডেশন, নাগড়ার জয়ের বাজার মোড়ে বিল বোর্ডসহ বহু বাড়ি ঘরের চাল বাতাসে উড়ে গেছে। পূর্বধলার শিমূলকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২টি চৌচালা টিনের ঘর, একই এলাকায় আলহাজ্ব রাজীব আলী দাতব্য চিকিত্সালয়ের আধাপাকা একটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ও লাইনের ওপর গাছ ভেঙ্গে পড়ায় ঝড়ের পর থেকে জেলা শহরে গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ঝড়ো হাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠতি ইরি বোরো ধান গাছ মাটিতে নুইয়ে পড়েছে।
দৌলতপুরে ও বানিয়াচংয়ে শিলা বৃষ্টি
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা ৭টি ইউনিয়নে হঠাত্ শিলাবৃষ্টিতে পাট, তামাক, কলা, পেঁপে, মরিচ, ভুট্টা ক্ষেত ও পানবরজ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
বানিয়াচং সংবাদদাতা জানান, গত সোম ও মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
