রাজধানীর কলাবাগানে বস্ত্র প্রকৌশলী কাজী সাদবিন হোসেন সানি খুন হওয়ার আগে তার পরিবার পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিল। সানির পরিবার আগে থেকেই আশংকা করেছিল ডা. নাজিম জাহাঙ্গীর তাদের পরিবারের ক্ষতি করতে পারে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার গভীর রাতে বেইলী রোডের বাসা থেকে ডা. নাজিম জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোমবার রাতে সানির খালু ডা. শহীদুল আলম খানের বাসা থেকে ফেরার পথে গ্রীন রোডের ২/বি নম্বর ভবনের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার এসআই শরীফুল ইসলাম বলেন, হত্যার নেপথ্য কারণ সম্পর্কে অনেক তথ্যই বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে সেসব যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে। পাশাপাশি ডা. নাজিমকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।
নিহতের বাবা ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কাজী শওকত হোসেন জানান, ডা. শহীদুল আলম খানের মেয়ে সাদিয়া আফরীন খান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে এমবিবিএস পাস করেন। পরে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর থেকে তার ওপর নজর পড়ে ডা. নাজিম জাহাঙ্গীরের। তিনি প্রেম-বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রায়ই তাকে বিরক্ত করতেন। সাদিয়া বিবাহিত হওয়ায় নাজিমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু ডা. নাজিম উত্ত্যক্ত করেই চলেন। ডা. নাজিমের বিরুদ্ধে নানারকম অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কর্মক্ষেত্র থেকে টেলিভিশন চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা ও জালিয়াতির মতো অনেক অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অনেক মামলাও রয়েছে। এ ছাড়া সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কাজী শওকত হোসেন বলেন, ডা. নাজিমের ক্রমাগত হুমকি ও চাঁদা দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দু’ বছর আগে পুলিশের আইজি’র কাছে তিনি ও ডা. এসএ খান গিয়েছিলেন। ডা. নাজিম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আইজি’র কাছে জমা দেয়া হয়। আইজিপি’র কাছে তাদের পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন। এ বিষয়ে কোন আইনী সহায়তা না পেলে তিনি ডিএমপি কমিশনারের সাথে দেখা করেন। সেখানে ডা. নাজিম জাহাঙ্গীরের হাত থেকে তাদের পরিবারকে রক্ষার দাবি জানালে পুলিশের পক্ষ থেকে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। ডিএমপি কার্যালয় থেকে জানানো হয় যে, ডা. নাজিম জাহাঙ্গীর প্রধানমন্ত্রীর মরহুম স্বামীর পরিবারের আত্মীয়। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়।
