খুঁড়িয়ে চলছে বার্ন ইউনিট

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৩৯
প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিত্সা সরঞ্জামের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বার্ন ইউনিটের চিকিত্সা সেবা। চিকিত্সকরা জানান, বার্ন ইউনিটটিতে সমপূর্ণ আইসিইউ সম্বলিত সুবিধা দিতে চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা প্রয়োজন। তবে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হলে দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় একটি পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট নির্মাণ করা কঠিন হবে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ২৬টি বেড নিয়ে বার্ন ইউনিটের চিকিত্সা কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইউনিটটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। দক্ষ জনবল নেই, অপারেশন থিয়েটার নেই, আইসিইউ সুবিধা নেই। শুধুমাত্র ব্যান্ডেজ প্রদানের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ এর চিকিত্সা সেবা। তবে গত বছর হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় আলাদা একটি ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে বার্ন ইউনিটের চিকিত্সা সেবা সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু আগুনে পোড়া রোগীর চিকিত্সাবান্ধব সুবিধা না থাকায় রোগীরা সুফল পাচ্ছে না। চিকিত্সকরা জানান, বার্ন রোগীদের জন্য আইসিইউ সুবিধা অত্যাবশ্যক। আগুনের কারণে তাদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। শ্বাসনালী অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। বর্তমানে বার্ন ইউনিটে ২৬টি জেনারেল বেড রয়েছে। আইসিইউ সুবিধা সম্বলিত কোন বেড নেই। প্রতিদিন ৭০ জনের বেশি রোগী চিকিত্সাধীন থাকে। ফ্লোরে রেখেই এদের চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। তারা আরো জানান, বার্ন ইউনিটটি রোগীবান্ধব নয়। সেবার পরিবেশ নেই। অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। বার্ন ইউনিটের আদলে এটা করা হয়নি। রোগীর চাপে চিকিত্সক ও নার্সরা চলাচল করতে পারছে না। জানা গেছে, সমপ্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের কাছে বার্ন ইউনিট সমপ্রসারণ করার জন্য প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। এটাকে ২৬ থেকে ১০০ বেডে উন্নীত করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইসিইউ সাপোর্ট সম্বলিত একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি টাকা। বর্তমান বার্ন ইউনিট সংলগ্ন ভবনে তিনটি ফ্লোর নির্মাণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, স্বাস্থ্য খাতে এডিবি’র উন্নয়ন বরাদ্দের ১০ মিলিয়ন ডলার গত অর্থবছরে ‘ডেসপাস’ হয়নি। এসব টাকা এবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেডিক্যালে বার্ন ইউনিটের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে এডিবি। এ সব অর্থ পাওয়া গেলে বার্ন ইউনিটকে রোগীবান্ধব করে নির্মাণ করা সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিক্যালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. মৃনাল কান্তি দাশ ইত্তেফাককে বলেন, ‘বর্তমানে চিকিত্সাধীন ৬০ ভাগ রোগী আগুনে পোড়া। শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেলে আইসিইউ সুবিধা ছাড়া রোগীকে চিকিত্সা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এখন ১টিও আইসিইউ বেড নেই। ফলে মুমূর্ষু অনেক রোগী ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ গরিব রোগীর পক্ষে ঢাকায় গিয়ে চিকিত্সা নেয়া সম্ভব হয় না।’ এদিকে রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) গত মঙ্গলবার বার্ন ইউনিটকে অত্যাধুনিক ১০টি আইসিইউ বেড প্রদান করেছে বলে জানা গেছে। ‘এইচডিইউ’ মডেলের ডাবল ফাংশন যুক্ত চীন থেকে আমদানি করা প্রতিটি বেডের মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বেডগুলো হস্তান্তর করে রিহ্যাব।