লোক সংগীতশিল্পী বিশ্বজিত্ রায়। সম্প্রতি বাজারে এসেছে তার তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘রাধারমনের গান’। নিজের এই ব্যতিক্রমী কাজ ও সাম্প্রতিক ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন শিল্পী। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
আপনার এবারের অ্যালবাম প্রসঙ্গে বলুন।
এবারে আমি এমন কিছু গান করেছি যেগুলো রাধারমনের বইতে নেই। আর ৪টি গান রাধারমনের বই থেকে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০০৮ সালে রিলিজ পেয়েছিল তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রাধারমনের গান’। ২০১০ সালে রিলিজ পায় দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ভাইবে রাধার মন বলে’।
পাইরেসি বা রয়্যালিটি-বিহীন এই অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার এই সংগীতচর্চাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
পাইরেসি রোধে সরকারের দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত—এছাড়া একজন শিল্পীর হিসেবে আর কি বলব। আমরা প্রাণের টানে গান করি। এখন যারা শিল্পীদের ঠকায় তাদের পাইরেসির আইনে শাস্তি হওয়া উচিত।
তাহলে আপনি বলছেন আপনি প্রাণের টানেই গান করেন।
মানুষকে বিনোদিত করেন...
না এখানে আমার দ্বিমত আছে। গান বা সাহিত্য কোনো বিনোদনের খোরাক নয়। মানুষ হয়তো এর মাঝে বিনোদন খুঁজে পায়। আসলে গান হচ্ছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উচ্চমানের শিল্প। শিল্প তো শুধু মানুষকে বিনোদিত করার জন্য নয়।
এখন চলছে অজস্র মিক্সড অ্যালবামের জোয়ার। সবাই একই স্রোতে আধুনিক ধারাতেই গা ভাসাচ্ছে। তরুণেরা কি এ ধরনের নিরীক্ষধর্মী কাজে উত্সাহিত হচ্ছে?
আমরা ওয়ান টাইম ইউজ আর্টিস্ট না। কারণ নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, লোকগীতি—এগুলো আগে থেকেই মানুষের মনে এক জায়গা করে নিয়েছে। যেই ভালোবাসার জায়গাটা এখনও আছে। আর ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু আজকাল অনেক নতুন শিল্পী আছে যারা হয়তো দু-একটা গান গেয়ে বিখ্যাত হয়ে যাচ্ছে। দেশে বিদেশে কনসার্ট করছে। এসবই একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য । একসময় তারা হারিয়ে যায়। হারিয়ে গেছেও অনেকে। সফটওয়্যারের আশীর্বাদে সুরে মাধুর্য আনা যায় কিন্তু টিকে থাকা যায় না।
গান নিয়ে আগামী পরিকল্পনা একটু বলুন।
রাধারমনের একটি স্মারকলিপি করতে চাই। রাধারমনকে এখনও অনেকে চেনে না। তার পরিচয় সর্বসাধারণের মাঝে পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। এরইমধ্যে ‘রাধারমন সংস্কৃতিক চর্চা’ নামে একটি সংগঠন করা হয়েছে। যেখান থেকে গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে তিনটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য রাধারমনকে চেনানো।
