‘চিরকুমার’ মোদী টেকনিক্যালি ম্যারেড

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৮
ভারতে এবার লোকসভা নির্বাচনকে সেদেশের অনেক মিডিয়া ‘দুই কুমারের লড়াই’ বলে অভিহিত করেছে। কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী অবিবাহিত। অপরদিকে, বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীকে সবাই ‘কুমার’ হিসেবেই জানতো। কারণ, তার এক স্ত্রী থাকার কথা প্রচলিত থাকলেও তিনি কখনো স্বীকার করেননি তার অর্ধাঙ্গীনির অস্তিত্ব। তাই বিতর্কে না গিয়ে মোদীকে সাধারণ মানুষ ব্যাচেলর হিসেবেই দেখতো। কিন্তু ‘চিরকুমার’ মোদী হঠাত্ করে হয়ে গেছেন বিবাহিত। তবে খাতা কলমে। নির্বাচনী হলফনামার ফরম পুরণ করার সময় বৈবাহিক অবস্থার ঘরে এবার মোদী লিখেছেন ‘বিবাহিত’। আর স্ত্রীর নাম লিখেছেন যশোদাবেন। এরপরেই তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ভারতের মিডিয়াতে। রাতারাতি ‘কুমার’ স্ট্যাটাস বদলে বিবাহিত করায় ব্যাঙ্গবিদ্রুপও করতে ছাড়ছে না অনেকে। বিপদ বুঝে ভাইকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন মোদীর বড়ভাই সোমাভাই। তিনি ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, তার ছোটভাই সত্যিকার অর্থে নয়, ‘টেকনিক্যালি’ অর্থাত্ কৌশলগতভাবে বিবাহিত! ব্যাপারটা আরেকটু খোলাসা করে তিনি বলেন, ৪০-৫০ বছর আগে মোদী যখন কিশোর ছিল তখন আমাদের গরীব ও অশিক্ষিত মা-বাবা গ্রামের অন্যান্য দশটা পরিবারের মতোই তাকে বাল্যবিবাহ করান। কিন্তু মোদী সেই বিয়ে মেনে নেয়নি। বিয়ের সপ্তাহ দুয়েক পর মোদী বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এরপর বাড়ির সাথে তার যোগাযোগ ছিল না। পরে যখন জানলাম সে দেশের সেবায় নিয়োজিত তখন আমাদের মনে আর কোনো কষ্ট থাকেনি। যশোদাবেনও স্বামী হিসেবে দাবি করে মোদীর পিছু নেয়নি। অর্থাত্ সেও একাকিত্ব জীবন পার করেছে। বাপের বাড়ি বসে শিক্ষকতা করে জীবন পার করেছে। এখন হয়তো কৌশলগত কারণে সমালোচনা এড়ানোর জন্য মোদী স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে বিবাহিত লিখেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ২০০১, ২০০২, ২০০৭, ২০১২ পর পর চারটি বিধানসভা নির্বাচনে স্ত্রীর ঘরে কিছুই লেখেননি মোদী। কিন্তু এবার ভদোদরা থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে গিয়ে মেনে নিলেন নিজের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা। দাবি করলেন, প্রথা মেনেই তার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল যশোদাবেনের। তবে স্ত্রীর রোজগার বা সম্পত্তির খতিয়ান দিতে পারেননি তিনি। বলেছেন, এ ব্যাপারে তার কোনও ধারণা নেই। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিরোধীদের অপপ্রচারের সুযোগ না দিতেই মনোনয়নপত্রে স্ত্রীর উল্লেখ করেছেন মোদী।