বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিসহ অন্য বিবাদীদের এই আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ১১ মে এর মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সমপ্রদায়ের উপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হন। এ নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করে। হাইকোর্ট নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ওই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এ নির্দেশের পর সাবেক জেলা জজ ও বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন চপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এক বছর তদন্ত শেষে এক হাজার পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্র্ব মন্ত্রণালয়ে দাখিল করে কমিশন। ওই প্রতিবেদনে দোষীদের চিহ্নিত করা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। এই প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই তদন্ত প্রতিবেদন গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক প্রতিবেদন গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত ওই তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিভাগে ২৭৬টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৯৭টি, সিলেট বিভাগে ১৭টি, খুলনা বিভাগে ৪৭৮টি, রাজশাহী বিভাগে ১৭০টি এবং বরিশাল বিভাগে সর্বাধিক ২,২২৭টি সহিংস ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মোট মামলা হয়েছে ২২১টি, যার মধ্যে ১৯৪টিতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং বাকিগুলোতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।
গতকাল এই তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত্ রায় বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর সহিংসতার বিষয়ে কার্যত কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এখন ব্যবস্থা নেয়া হবে।
