জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ফিলিস্তিনের কয়েকটি আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় দেশটির ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। এর ফলে ইসরাইলের পক্ষ ফিলিস্তিনকে করের অর্থ প্রদান করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি অনুযায়ী ফিলিস্তিন অঞ্চল দিয়ে রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে কর আদায় বাবদ দেশটিকে প্রতিমাসে ১০ কোটি ডলার দিত ইসরাইল। ইসারাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবরোধের প্রাথমিক ফলাফল হিসেবে তারা ফিলিস্তিনকে আর করের অর্থ প্রদান করবে না। এর পাশাপাশি ইসরাইলের ব্যাংকে টাকা জমা রাখার বিষয়টি সীমিত করা হবে। তবে এটা এখনো স্পষ্ট নয় কী পরিমাণ অর্থ এবং কতদিনের জন্য তা স্থগিত করা হবে। অবরোধের অংশ হিসেবে গাজা উপত্যকায় গ্যাস উত্তোলনে ইসরাইলের অংশগ্রহণও স্থগিত হতে পারে বলে দেশটি জানিয়েছে। এসব পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনের প্রধান আলোচক সায়েব এরেকাত ‘ইসরাইলি ছিনতাই’ ও ‘চুরি’ বলে অভিযুক্ত করেছেন।
অবরোধের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই বুধবার ফিলিস্তিনকে প্রতিমাসে ১০ কোটি ডলার করে সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে আরব লিগ। এর ফলে ফিলিস্তিন আর্থিকভাবে খুব একটা ক্ষতির সম্মুখীন হবে না বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ১৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থায় ফিলিস্তিনের যুক্ত হওয়ার আবেদনে সই করার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল চতুর্থ দফায় ২৬ জন বন্দীকে মুক্তি দিতে অস্বীকার করেছিল। এদিকে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় যুক্ত হতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের আবেদনটি গ্রহণ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। ফলে দেশটি জাতিসংঘের অন্তর্গত ১৩টি সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত হলো। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বৃহস্পতিবার জানান, ফিলিস্তিনের আবেদন গ্রহণের বিষয়টি মহাসচিব সংস্থাটির সদস্য ১৯৩টি দেশকে জানিয়েছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের দূত রিয়াদ মানসুর জানান, ফিলিস্তিন ২ মে জাতিসংঘের আরও কয়েকটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে আবেদন করবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি আলোচনার একটি নির্ধারিত তারিখ আগামী ২৯ এপ্রিল। তবে ইসরাইল বারবার বলে আসছিল, ফিলিস্তিন যদি কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগদান করে তবে তারা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের সংস্থাগুলোতে ফিলিস্তিনের যোগদানের ফলে তাই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যত্ নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
